নজরবন্দি ব্যুরোঃ চাকরির নামে প্রতারণা কান্ডে গ্রেফতার বিজেপির এক নেতা ও এক কর্মী। বর্ধমানের (পূর্ব) গুসকরায় রেলে চাকুরি দেওয়ার নামে প্রতারণার ঘটনার তদন্তে নয়া মোড়। অভিযুক্তদের জেরা করে পুলিশের হাতে এসেছে নয়া তথ্য। উত্তর ২৪ পরগনা থেকে বিজেপির একজন নেতা ও এক কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞেসাবাদ করা হচ্ছে। এই প্রতারণার চক্রে সাথে আর কে বা কারা জড়িত আছে তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ ‘এই রাবণ সরকারকে সরিয়েই, রাজ্যে রামের সুশাসন ফিরে আসবে’: মন্তব্য ভারতী ঘোষের।


সম্প্রতি পূর্ব মেদিনিপুরের গুসকরার বাসিন্দা সব্যসাচি মন্ডল নামে এক যুবক চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, রেলে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে শেষ পর্যন্ত জাল নিয়োগ পত্র দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার অভিযোগের ভিত্তিতে এক মহিলা সহ ৫ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে ভৈরব বন্দ্যোপাধ্যায় ও পূর্ণিমা দে-কে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাঁদের জেরা করে নয়া তথ্য হাতে পেয়েছে তদন্তকারীরা। তথ্যের উপর ভিত্তি করে বৃহস্পতিবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নিউ ব্যারাকপুরে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এবং গ্রেফতার করা হয় দিবাকর রায় নামের এক ব্যাক্তিকে।
তারপর বীজপুর এলাকায় থেকে গ্রেফতার করা হয় রাজেশ প্রামাণিক নামক ব্যাক্তিকে। স্থানীয় সূত্রে খবর, দিবাকর রায় উত্তর দমদম কেন্দ্রের উত্তর মণ্ডলের বিজেপির তপশিলি মোর্চার সহ-সভাপতি ছিলেন। ওই মণ্ডলের বিজেপির তপশিলি মোর্চার সভাপতি অভিষেক বিশ্বাস এই বিষয়ে জানিয়েছেন, ধৃত দিবাকর রায় যে ওই মন্ডলের সহ-সভাপতি তার কোন লিখিত নির্দেশ তাঁদের কাচ হে নেই। কিন্তু তিনি ওই এলাকার বিজেপি দলের একজন সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে। এবং তিনি বলেন, চাকরির নামে প্রতারনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
চাকরির নামে প্রতারণা কান্ডে গ্রেফতার বিজেপির এক নেতা ও এক কর্মী। কিন্তু এই ঘটনা সত্য হলে আইনি বিচারের আর্জি জানিয়েছেন অভিষেক বিশ্বাস। সুত্রের খবর, ধৃত রাজেশ প্রামানিকও বিজেপি কর্মী। ধৃত ভৈরব বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশি জেরায় জানিয়েছেন, এই সমস্ত কাজে সে টাকা তিলে দিবাকরের কাছে জমা দিত। বেশির ভাগ টাকার লেনদেন ব্যাংক আ্যকাউন্টের দ্বারা করা হত। ভৈরব জানিয়েছেন, বেসরকারি একটি সংস্থার কাজের সুবাদে দিবাকর রায়ের সাথে তার পরিচয়। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ছয়মাসে ভৈরব ও অন্যান্যরা মিলে একাধিক আ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দিবাকরকে ২০ লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছে। এবং সেই টাকা দিবাকর রাজেশের হাত দিয়ে অন্য কোন এক ব্যাক্তির কাছে পাঠাতো বলে জানা গেছে। কিন্তু সদেই ব্যক্তি সম্পর্কে সঠিক তথ্য এখনও পুলিশ পায়নি। শুক্রবার বর্ধমান আদালতে ধৃত দিবাকর ও রাজেশের ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।


সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



