পুজো জেলে কাটবে না বাইরে? নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চন্দ্রনাথ সিনহার ভাগ্য নির্ধারণ মঙ্গলবার

ইডি হেফাজত নাকি জামিন—প্রাক্তন কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করবে সিবিআই বিশেষ আদালত

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে ফের চরম নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজ্যে। প্রাক্তন কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা-কে ঘিরে এখন রাজনৈতিক ও আইনি মহল সরগরম। সোমবার সিবিআই-এর বিশেষ আদালত জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে তাঁর ভাগ্য নির্ধারণী রায়। আদালতের সিদ্ধান্ত হবে, চন্দ্রনাথ ইডি-র হেফাজতে যাবেন নাকি জামিন পাবেন।

এই মামলার শুনানিতে এ দিন ইডি আদালতের কাছে আবেদন জানায়, মন্ত্রীকে কমপক্ষে সাত দিনের হেফাজতে নিতে হবে। কারণ, তাঁর বাড়িতে তল্লাশির সময় বিপুল নথি এবং নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

ইডি-র অভিযোগ ও আদালতের প্রশ্ন
ইডি-র আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছেন, চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়ি থেকে নগদ টাকা উদ্ধার ছাড়াও তাঁর সম্পত্তির কাগজপত্র ও আয়ের মধ্যে কোনও সঙ্গতি নেই। তাঁদের বক্তব্য, বারবার নথি চাইলেও মন্ত্রী তা জমা দেননি। তবে ইডি আদালতে অভিযোগ করে, চার্জশিট জমা দেওয়ার মাত্র এক দিনের মধ্যেই হঠাৎ সব নথি হাজির করেন তিনি। যা প্রমাণ করে, তিনি প্রভাবশালী এবং তথ্য গোপন করেছেন।

তবে বিচারকের প্রশ্ন ছিল অন্য জায়গায়। তিনি জানতে চান, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে চন্দ্রনাথকে জিজ্ঞাসাবাদের পরও কেন প্রায় ১১ মাস সময় লাগল ইডি-র চার্জশিট জমা দিতে? এই প্রশ্নের ব্যাখ্যা আদালতে দিতে হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে।

মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার আইনজীবীরা পাল্টা বলেন, ইডি যা যা নথি চেয়েছে, সবই জমা দেওয়া হয়েছে। শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তির নয়, ব্যবসা ও কৃষিজমি সংক্রান্ত তথ্যও জমা পড়েছে। তিনি যে সংস্থার অংশীদার, সেই সংস্থার আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তথ্যও ইডি পেয়েছে।

চন্দ্রনাথের দাবি, তদন্তকারীরা ইচ্ছে করে তাঁকে অভিযুক্ত করতে চাইছে। আদালত থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমার আইনের উপর ভরসা আছে। যা যা নথি চাওয়া হয়েছিল, সবই জমা দিয়েছি।”

এই মামলাটি শুধুমাত্র একটি আর্থিক অনিয়মের তদন্ত নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিরোধীরা অভিযোগ তুলছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের শীর্ষ নেতারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবির দাবি করছে, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল।

নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে আগেও একাধিক শাসকদলীয় নেতা ইডি ও সিবিআই-র তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন। এবার প্রাক্তন কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার ক্ষেত্রে আদালতের রায় আরও বড় রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আসন্ন মঙ্গলবারের গুরুত্ব
সব চোখ এখন মঙ্গলবারের দিকে। আদালত যদি ইডি-র আবেদন মঞ্জুর করে, তবে চন্দ্রনাথ সিনহাকে কেন্দ্রীয় হেফাজতে যেতে হবে। আবার যদি জামিন মেলে, তবে তাঁর পক্ষে তা বড় স্বস্তি হবে। তবে যাই হোক না কেন, রাজ্যের রাজনীতিতে এই মামলার প্রভাব গভীর হতে চলেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত