বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার ঘটনায়। বিজেপি কর্মীদের একাংশ বোলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে দাবি করেছেন, নির্বাচনের আগে ও পরে তাঁদের লক্ষ্য করে হুমকি, হামলা এবং অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগে চন্দ্রনাথ সিনহার পাশাপাশি আরও কয়েকজন তৃণমূল নেতাকর্মীর নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, রায়পুর-সুপুর অঞ্চলের কয়েকজন বিজেপি কর্মী বোলপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটের সময় প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং পরে একাধিক এলাকায় রাজনৈতিক হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগের সমর্থনে কিছু ছবি ও তথ্যপ্রমাণও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি।


অভিযোগকারী বিজেপি কর্মী পথিক মাঝি তাঁর লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রায়পুর-সুপুর অঞ্চলের কাকুটিয়া, সেনকাপুর, সুপুর, নুরপুর ও রজতপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর দাবি, সেই সময় একাধিক বিজেপি নেতা-কর্মীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শুধু পুরুষ কর্মীরাই নন, এলাকার মহিলারাও সেই সময় নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন। অভিযোগকারীর দাবি, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে তৃণমূল কর্মী বাবু দাসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পথিক মাঝির দাবি, প্রকাশ্য সভা থেকে বিরোধী কর্মীদের উদ্দেশে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বাবু দাস বোলপুর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঙ্গীতা দাসের স্বামী এবং স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত।


অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন সভা-মঞ্চে দেওয়া কিছু বক্তব্য এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছিল। এমনকি বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। বর্তমানে বাবু দাসকে ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি বলে জানা গিয়েছে।
বিজেপি কর্মী বাদল বৈদ্য বলেন, “প্রকাশ্য সভা থেকে বারবার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার স্মৃতি এখনও মানুষের মনে তাজা। আমরা চাই পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।”
অন্যদিকে, অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী ও বর্তমান বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে বোলপুর থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযোগপত্র জমা পড়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে।
অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। তবে ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে নতুন করে ওঠা এই অভিযোগ বীরভূমের রাজনীতিতে ফের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



