নজরবন্দি ব্যুরোঃ এবার বেসুরো বিজেপি হেভিওয়েট চন্দ্র বসু, ‘বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে’ যোগ দিতে পারেন তৃণমূলে। তীব্র জ্বল্পনা রাজনৈতিক মহলে। ভোট পরবর্তী হিংসা, পৃথক উত্তরবঙ্গ ও রাঢ়বঙ্গের দাবি নিয়ে একদিকে যখন সরব হচ্ছে বঙ্গ বিজেপি। যখন একাধিকবার রাজ্যপালের কাছে নালিশ করছেন রাজ্য বিজেপির নেতা-বিধায়করা, তখন হটাৎ সুর বদল করলেন নেতাজির পরিবারের সদস্য তথা বিজেপি-র হেভিওয়েট নেতা চন্দ্র কুমার বোস।
আরও পড়ুনঃ বড়সড় ধস নামার কারণে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং।
গতকাল একটি টুইটে তিনি লিখেছেন, “বাংলার মানুষ ধর্মীয় ও বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে স্পষ্টত ভোট দিয়েছে। বাংলা সবসময় অন্যদের থেকে আলাদা থেকেছে রাজনীতিতে ধর্মীয় প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে। জয় হিন্দ!” নেতাজির প্রপৌত্রের এই টুইট স্বাভাবিক ভাবেই অস্বস্তি বাড়িয়েছে বিজেপির অন্দরমহলে। শোনা যাচ্ছে বিজেপির বঙ্গভঙ্গের চক্রান্তের বিরুদ্ধে লড়তে তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন এই নেতা।
প্রসঙ্গত, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে খেলা হয়েছিল ধর্মীয় মেরুকরণের বনাম উন্নয়ন তাস এর। একদিকে বারবার মোদি-শাহের সভা। বিজেপির একাধিক নেতা তাদের বক্তব্যে হিন্দুত্বের কথা বলেছেন। এমনকি মতুয়া ভোট টানতে উঠেছে সি এ এ প্রসঙ্গ। অন্যদিকে নন্দীগ্রামের প্রচারে লাগাতার মমতা ব্যানার্জিকে শুনতে হয়েছে ” বেগম” সম্বোধন। উল্টোদিকে প্রথম থেকেই তৃণমূল নেত্রীর প্রচারে শুধুই এসেছে উন্নয়ন প্রসঙ্গ। শেষ পর্যন্ত খেলে দেয় বাংলার জনগন। তৃতীয়বারের জন্যে বাংলার মসনদে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
People of Bengal have clearly voted against religion & divisive politics. Bengal always stood out from the rest as the people refused to support religious symbols for political purposes. Jai Hind!
— Chandra Kumar Bose (@Chandrakbose) June 23, 2021
বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি শুরু থেকে ২০০-র বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসছে। এই প্রচার করছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, স্মৃতি ইরানি, যোগী আদিত্যনাথের মতো কেন্দ্রীয় নেতারা। কিন্তু গত ২ মে সব হিসাব উল্টে দিয়ে বিজেপি ধরাশায়ী হয়েছে। ২১৩ আসন জিতে রাজ্যে তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি আটকে গিয়েছে মাত্র ৭৭-এ।
Certainly we would protect the Hindus if they are attacked!But I don't believe in making a big issue & creating a Hindu-Muslim divide! In public life it's our responsibility to ensure communal harmony to protect the Concept of Bharat, failing which there would be no Bharat.
— Chandra Kumar Bose (@Chandrakbose) June 25, 2021
এরপর থেকেই পৃথক উত্তরবঙ্গ ও রাঢ়বঙ্গের দাবি নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। দুই সাংসদ, জন বার্না আর সৌমিত্র খাঁ রীতিমত উঠেপড়ে লেগেছেন বাংলাকে ভাগ করতে। সেই পরিস্থিতিতে চন্দ্র বসুর অবস্থান রাজনৈতিক মহলের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ন। একে একে বেসুরো হয়েছেন তৃণমূল থেকে আসা নেতা-নেত্রীরা। এবার বেসুরো বিজেপি হেভিওয়েট চন্দ্র বসু, বলা চলে নবতম সংযোজন!



