নজরবন্দি ব্যুরোঃ টানা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় পুড়ছিল বাংলা। জন সাধারণ তাকিয়ে ছিল কিছুটা চাতকের মত, কখন বৃষ্টি আসবে। কখন আসবে বৈশাখের কালবৈশাখী। সবার আশা পূর্ণ করে অবশেষে সে এসেছে। কাটফাটা রোদকে ঢাকা দিয়েছে কালো মেঘ। গত কয়েকদিনে তাপমাত্রা কমেছে অনেকটাই। গরম কমে গিয়েছে অনেকটাই। এই পরিস্থিতিতে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়। ৩টি রাজ্যে এই ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়বে ভালমত।
আরও পড়ুনঃ অমিত শাহের মেনুতে কী? মমতার কথামত থাকছে রসগোল্লা ও দই?
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে চলেছে। যার গতিপথ হবে উত্তর পশ্চিমে অর্থাৎ অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা বা বাংলার উপকূলের দিকে। দক্ষিণ আন্দামান এবং দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগরের যে নিম্নচাপ তৈরি হয়েছিল, সেটি যে শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে, তা আগেই জানিয়েছিলেন আবহবিদেরা।
এই মুহুর্তে ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে ঘুর্ণাবর্তটি প্রবল সাইক্লোনে রূপান্তরিত হতে চলেছে। আবহাওয়া দফতরের কর্তা মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, বর্তমান আবহাওয়ার পরিস্থিতি ঘুর্ণাবর্তটির ঘুর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ায় পক্ষে সহায়ক। ঘুর্ণিঝড়ের সাথে ঘনীভূত হতে পারে প্রবল নিম্নচাপ। তবে ঘূর্ণিঝড় বাংলায় কতটা প্রভাব ফেলবে বা আদৌ প্রভাব ফেলবে কি না, তা স্পষ্ট জানায়নি আলিপুর মৌসম ভবন।
ঘুর্নিঝড় এখন কোথায়? দেখুন লাইভ(এখানে ক্লিক করুন)

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্দামান সাগর, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এবং মধ্য বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে আসতে পারে সেই ঘূর্ণিঝড়। ঘুর্ণাবর্তের প্রাথমিক গতিবিধি বলছে আগামী ৮ই মে সেটি ভয়াবহ রূপ ধারন করতে পারে। বেসরকারি সূত্র দাবি করেছে, আগামী ১০ তারিখ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে স্থলভাগে।
বঙ্গোপসাগরে ভয়াবহ নিম্নচাপ, ১০ তারিখ ঘুর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা।

আবহাওয়া দফতরের মতে, জম্মু ও কাশ্মীরের দু-একটি অংশ, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তীশগঢ়ের কিছু অংশ, কর্ণাটক এবং তেলঙ্গানাতেও বৃষ্টি হতে পারে। দেশের আরও যেসব অঞ্চলে বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে সেগুলি হল– পঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, দিল্লি এবং উত্তর প্রদেশের কিছু অংশ। এসব জায়গায় হালকা বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

সতর্কতা হিসেবে ইতিমধ্যেই দক্ষিণ আন্দামান সাগর এবং বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বাংলাদেশের বেশ কিছু অংশে এই ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়বে। ইতিমধ্যেই ওড়িশা সরকার হলুদ সতর্কতা জারি করেছে।



