সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে একসময় তাঁকে একটি বাড়ির ভিতরে আশ্রয় নিতে হয়। বাইরে বিক্ষোভকারীদের জমায়েত এবং উত্তেজনার আবহের মধ্যে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় এলাকা থেকে বের করে আনা হয় তাঁকে।
শনিবার ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সোনারপুরে গিয়েছিলেন অভিষেক। তবে তাঁর সফর শুরুর আগেই বিভিন্ন জায়গায় কালো পতাকা হাতে বিক্ষোভকারীদের জমায়েত দেখা যায়। কামালগাজি মোড় থেকে শুরু করে সোনারপুরের একাধিক এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে।


প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে চারচাকার গাড়িতে সফর করলেও পরে একটি দলীয় কর্মীর মোটরবাইকে চেপে গন্তব্যের দিকে রওনা দেন অভিষেক। কিন্তু কিছু দূর এগোতেই বিক্ষোভকারীরা তাঁকে ঘিরে ফেলে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
তৃণমূলের অভিযোগ, বিক্ষোভের সময় অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো এবং অন্যান্য বস্তু ছোড়া হয়। ধস্তাধস্তির মধ্যে তাঁর চশমা ভেঙে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে হেলমেট পরিয়ে দেওয়া হয় বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
পরিস্থিতির চাপে একসময় অভিষেককে একটি বাড়ির ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। বাইরে তখনও বিক্ষোভকারীদের জমায়েত ছিল। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।


বিকেলের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করে। হুইসল বাজিয়ে এবং নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে জমায়েত সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর পুলিশি ঘেরাটোপে অভিষেককে নিরাপদে বের করে আনা হয় বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁর কর্মসূচির বিষয়ে প্রশাসনকে আগাম জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। তিনি দাবি করেন, হামলার সময় এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ উপস্থিত থাকলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না।
তৃণমূল নেতা আরও বলেন, তাঁর উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তিনি আইনি পথে লড়াই করবেন। আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। তৃণমূল একে পরিকল্পিত আক্রমণ বলে দাবি করলেও বিজেপি অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে সোনারপুরের এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সব মিলিয়ে ভোট-পরবর্তী উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহে সোনারপুরের এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। এখন নজর প্রশাসনের তদন্ত এবং পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার দিকে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



