মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই প্রকল্পের প্রাথমিক রূপরেখা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (DPR) তৈরি করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
শুভেন্দুর বক্তব্য, দেশের যেসব শহরে জনসংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ লক্ষের মধ্যে, সেসব এলাকায় আধুনিক গণপরিবহণ ব্যবস্থা হিসেবে মেট্রো সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চায় রাজ্য সরকার।


বর্তমানে কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে দ্রুত গতিতে মেট্রো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। বারাসত এবং বারুইপুর পর্যন্ত নতুন মেট্রো করিডরের কাজও এগোচ্ছে। এর ফলে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে ‘সিটি মেট্রো সার্ভিস’ প্রকল্পের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হল, রাজ্যের কোন শহরগুলি এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারে। কারণ জেলার অধিকাংশ শহরের জনসংখ্যা এখনও নির্ধারিত মানদণ্ডের নিচে। ফলে নতুন শহরে সম্পূর্ণ নতুন মেট্রো প্রকল্প হবে, নাকি চলমান প্রকল্পগুলির সম্প্রসারণ ঘটবে— তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রশাসনিক সূত্রের মতে, প্রথম পর্যায়ে জনঘনত্ব, যাত্রী চাহিদা, নগরায়ণের গতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সম্ভাবনা বিবেচনা করেই পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত অনুমোদনের আবেদন জানানো হতে পারে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতার বাইরে মেট্রো পরিষেবা চালু হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি নয়, শিল্প, বাণিজ্য এবং নগর অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব পড়বে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি থেকে শুরু করে রিয়েল এস্টেট এবং অবকাঠামো উন্নয়নেও নতুন গতি আসতে পারে।
এখন নজর নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রস্তাব এবং কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়ার দিকে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে মেট্রো পরিষেবা নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



