নজরবন্দি ব্যুরোঃ নিঃশব্দে রেলের মাঠ ও স্টেডিয়াম বিক্রি, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে রেলকর্মীরা। গত অর্থ বাজেটেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সরকার নিজেদের অধীনস্থ বিভিন্ন ক্ষেত্রকে বেসরকারিকরণ করার পরিকল্পনা করছে। যার মধ্যে অন্যতম রেল। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ট্রেনকে বেসরকারিকরণের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এই নিয়ে রেলের অন্দরমহলে ক্ষোভ ও আশঙ্কার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ জারি দলের আদি-নব্য দ্বন্দ্ব, চুঁচুড়ার পর আসানসোলেও বিক্ষোভ দিলীপের সামনে
আর এবার দেশ জুড়ে রেলের একগুচ্ছ খেলার মাঠ ও স্টেডিয়ামকে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে কেন্দ্র। জানা যাচ্ছে লকডাউনের মধ্যে কার্যত নিঃশব্দেই চলছে এই কাজ। রেলের মাঠ, স্টেডিয়াম বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে রেল ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি নামে কর্পোরেট সংস্থার কাছে। কলকাতা, পাটনা, ভুবনেশ্বর, চেন্নাই, রায়বেরিলি, গােরক্ষপুর, লখনউ, সেকেন্দ্ৰবাদ, রাঁচি, বেঙ্গালুরু সহ পনেরােটি জনের খেলার মাঠ বাণিজ্যিক বিকাশের নামে কর্পোরেট সংস্থার হাতে তুলে দিচ্ছে রেল। এদিকে এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন রেল কর্মীরা।
অল ইন্ডিয়া রেলওয়ে মেনস ফেডারেশনের চেয়ারম্যান এ বিষয়ে সরব হয়েছেন। পূর্ব রেলের মেনস ইউনিয়নও এর বিরােধীতা করেছে। বছরের পর বছর দেশ বিদেশের বিখ্যাত ক্রীড়াবিদরা জেসব মাথে খেলে গিয়েছেন সেইসব মাঠ বেসরকারিকরণ মানতে পারছে না কেউই। এআইআরএফএর সাধারণ সম্পাদক শিবগােপাল মিশ্র রেলবাের্ডের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে জানান, পনেরােটি জনের গুরুত্বপূর্ণ শহরে যে মাঠ ও স্টেডিয়াম রয়েছে তা যেন কোনওভাবেই অল ইন্ডিয়া রেল ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির হাতে তুলে না দেওয়া হয়।
নিঃশব্দে রেলের মাঠ ও স্টেডিয়াম বিক্রি, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে রেলকর্মীরা। সব খেলার মাঠ রেল কর্মীদের ব্যবহারের জন্য রয়েছে। ওখানে রেলকর্মীর সন্তানরা প্রশিক্ষণ করেন। উল্লেখ্য ২০১৬ সালের অলিম্পিকে ৩৫ জন যােগদানকারী ভারতের প্রতিনিধি এই রেলের মাঠগুলি থেকেই প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এই মাঠগুলি দেশের সম্পদ। এটা কোন ভাবেই বিক্রি করা যাবে না। এখন দেখার এই চিঠির পর রেল এই ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নেন।



