সারদা-মামলায় পি চিতাম্বরমের স্ত্রী, নলিনী চিদম্বরমের বিরুদ্ধে ED-র আদালতেই গ্রাহ্য হল না কেন্দ্রীয় এজেন্সির দেওয়া সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট। উল্টে ভর্ৎসনা করে ED-র উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলল আদালত। বিচারক মন্তব্য করেন, বিচারের সময় দেখতে হয়, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বা রাজনৈতিক শত্রুতাকে আদালতে টেনে এনে মূল্যবান সময় নষ্ট করা হচ্ছে কি না। আদালত পোস্ট অফিস নয়, তার সামনে যে তথ্য এবং প্রমাণ পেশ করা হয়, তার ভিত্তিতেই বিচারপ্রক্রিয়া এগোয়।
আইনজীবী হিসেবে নলিনী চিদম্বরম যে পারিশ্রমিক চেয়েছেন, তাকে বেআইনি লেনদেন বলা যায় না। পেশাগত সম্পর্কের খাতিরে কোনও আইনজীবীকে মক্কেলরা বিমানের টিকিট, হোটেলের চার্জ, এই সমস্ত ফি হিসেবে দিতেই পারে। অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন ও মনোরঞ্জনা সিংয়ের কাছ থেকে আইনজীবী হিসেবে নলিনী চিদম্বরম যে পারিশ্রমিক নিয়েছেন, তা অস্বাভাবিক নয়।
সারদা মামলায় আইনজীবী তথা আয়কর পরামর্শদাতা নলিনী চিদম্বরমের বিরুদ্ধে ইডির পেশ করা তৃতীয় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট গ্রহণ করল না বিচার ভবনের সিবিআই আদালত। শুক্রবার ওই চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করে বিচারক প্রশান্তকুমার মুখোপাধ্যায়ের বলেন, আইনজীবী নলিনী চিদম্বরম এবং সারদা গোষ্ঠীর কর্তা সুদীপ্ত সেনের মধ্যে পিএমএলএ ধারায় কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেন হয়নি। তাই এই চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা নেই।
প্রসঙ্গত, ৫ জুলাই ইডি নলিনীর বিরুদ্ধে ৬৫ পাতার চার্জশিট-সহ ১১০০ পাতার নথি জমা দিয়েছিল। ইডির দাবি, ২০১১-’১২ আর্থিক বছরে সারদা-কর্তা সুদীপ্ত সেনের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা নিয়েছিলেন নলিনী। তিনি আইনি পরামর্শ বাবদ ওই টাকা নেওয়ার দাবি করলেও তার পক্ষে কোনও নথি পেশ করতে পারেননি। তাই চার্জশিট পেশ করা হয়েছিল।



