ক্যারি ব্যাগের দাম নেওয়া যাবে না? বড় দোকান ও শপিং মলকে কড়া নির্দেশ ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের

শপিং মল ও বড় রিটেল স্টোরে পণ্য কেনার পর ক্যারি ব্যাগের জন্য আলাদা টাকা নেওয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায়। ১৯৩০ সালের Sale of Goods Act-এর ৩৬(৫) ধারা ঘিরে কী বলল কমিশন?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শপিং মল বা বড় দোকান থেকে পণ্য কেনার পর হাতে তুলে দেওয়া কাগজের ক্যারি ব্যাগের জন্য আলাদা টাকা নেওয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কর্নাটকের দাভানগেরে ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন। এক গ্রাহকের কাছ থেকে ক্যারি ব্যাগের জন্য নেওয়া ১০ টাকা ফেরতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিপণিকে মোট ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ও জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণ, পণ্য ক্রেতার কাছে ‘deliverable state’-এ পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয় খরচ বিক্রেতারই বহন করার কথা।

দাভানগেরের ওই ঘটনায় একটি বড় রিটেল বিপণি থেকে কেনাকাটার পর এক ক্রেতার কাছ থেকে ক্যারি ব্যাগের জন্য ১০ টাকা নেওয়া হয়েছিল। এই অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিরুদ্ধে তিনি জেলা ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের দ্বারস্থ হন। শুনানিতে বিপণির তরফে জানানো হয়, ক্যারি ব্যাগের জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই ক্রেতাদের জানানো হয়েছিল এবং ব্যাগ নেওয়া ঐচ্ছিক ছিল।

কিন্তু সেই যুক্তি কমিশন গ্রহণ করেনি। তাদের বক্তব্য, দোকানে আগে থেকে নোটিস দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় নয়। পণ্য কেনার পর সেটি ক্রেতার হাতে যথাযথ ভাবে তুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাগের খরচ আলাদা করে ক্রেতার উপর চাপানো যায় কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।

এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ১৯৩০ সালের Sale of Goods Act-এর ৩৬(৫) ধারা। ওই ধারায় বলা হয়েছে, পক্ষগুলির মধ্যে অন্য কোনও চুক্তি না থাকলে পণ্যকে ‘deliverable state’-এ নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় খরচ বিক্রেতাকেই বহন করতে হবে। একাধিক ক্রেতা-সংক্রান্ত মামলায় কমিশন এই ধারার ভিত্তিতেই প্যাকেজিং ও ক্যারি ব্যাগের খরচ নিয়ে একই ধরনের পর্যবেক্ষণ করেছে।

এর আগে চণ্ডীগড়ের স্টেট ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছিল। Big Bazaar-এর বিরুদ্ধে মামলায় কমিশন জানিয়েছিল, ক্রেতার কেনা পণ্য দোকান থেকে বের করে দেওয়ার উপযোগী করতে যে প্যাকিং বা ক্যারি ব্যাগ প্রয়োজন, তার খরচ বিক্রেতার বহন করা উচিত। পরবর্তী একাধিক মামলাতেও এই ব্যাখ্যা অনুসরণ করা হয়েছে।

শুধু ক্যারি ব্যাগের দাম নেওয়া হলেই যে প্রতিটি পরিস্থিতিতে একই আইনি সিদ্ধান্ত হবে, এমনটিও ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিভিন্ন মামলায় ব্যাগটি কীভাবে দেওয়া হয়েছে, সেটি পণ্য সরবরাহের অবিচ্ছেদ্য অংশ কি না, ক্রেতা আলাদাভাবে ব্যাগটি কিনেছেন কি না এবং সংশ্লিষ্ট আইনি পরিস্থিতি—এই বিষয়গুলি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে নির্দিষ্ট মামলার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে সাম্প্রতিক দাভানগেরে কমিশনের রায়ে বড় রিটেল সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে এই বিতর্ক ফের সামনে এসেছে। রায়ে ক্যারি ব্যাগের জন্য ১০ টাকা নেওয়ার ঘটনাকে অন্যায্য বাণিজ্যিক পন্থা হিসেবে দেখা হয়েছে এবং গ্রাহককে ওই টাকা ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য আর্থিক দায়ও চাপানো হয়েছে।

এই ধরনের সিদ্ধান্ত অবশ্য নতুন নয়। ২০২১ সালে Reliance Retail-এর একটি মামলাতেও চণ্ডীগড় স্টেট ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন ক্যারি ব্যাগের জন্য আলাদা টাকা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে একই আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছিল। সেখানে বিক্রেতার তরফে ব্যাগ কেনা ঐচ্ছিক এবং ক্রেতার সম্মতিতেই টাকা নেওয়া হয়েছিল—এই যুক্তিও উঠেছিল। কিন্তু কমিশন Sale of Goods Act-এর ৩৬(৫) ধারার আলোকে বিষয়টি বিচার করে।

এর আগে Domino’s-এর বিরুদ্ধেও ক্যারি ব্যাগের টাকা নেওয়া নিয়ে একই আইনি প্রশ্ন উঠেছিল। সেই মামলাতেও কমিশন বলেছিল, খাবার বা পণ্যকে ক্রেতার কাছে সম্পূর্ণ ভাবে সরবরাহ করার উপযোগী করে তোলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্যাকিংয়ের খরচ বিক্রেতার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

ফলে শপিং মল বা বড় রিটেল স্টোরে কেনাকাটার সময় ক্যারি ব্যাগের জন্য আলাদা টাকা চাওয়া নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে যে দীর্ঘদিনের বিতর্ক, সাম্প্রতিক এই রায় সেটিকে ফের সামনে নিয়ে এসেছে। তবে কোনও দোকান বেআইনি ভাবে টাকা নিচ্ছে কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রায়, ব্যাগের প্রকৃতি এবং বিক্রির পরিস্থিতি দেখা জরুরি। এই কারণে ক্যারি ব্যাগের চার্জ নিয়ে অভিযোগ থাকলে বিল ও সংশ্লিষ্ট প্রমাণ সংরক্ষণ করে ক্রেতা সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিকার চাওয়া যেতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন