নজরবন্দি ব্যুরো: আপনার উপর কেউ নজরদারি করছে নাতো? সোস্যাল মাধ্যমে যোগাযোগের মাধ্যমগুলির প্রধান হল হোয়াটসঅ্যাপ। বহুল ব্যবহৃত এই অ্যাপ কয়েকবছর আগে কিনে নেয় ফেসবুক। তারপর থেকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে বারবার বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে তারা। সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বাজারে বর্তমানে এমন কিছু ট্রাকিং অ্যাপ রয়েছে যার সাহায্যে গ্রাহকের তথ্য সহজেই চুরি করা যায়। এমনকি এর জন্য সেফটি ফিচার ও ভাঙতে হয় না তাদের। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সম্প্রতি তুলে ধরেছে এক সংবাদসংস্থা।
আরও পড়ুনঃ মাঠে নামার আগে, KKR কে শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইট করলেন মুখ্যমন্ত্রী।


চিন্তার বিষয় অ্যাপগুলি গুগল প্লে ও অ্যাপল স্টোর এ সহজেই উপলব্ধ। আসলে এই স্টকারওয়ার অ্যাপগুলি অনলাইন সিগন্যাল ফিচার ব্যবহার করে কে কে অনলাইন রয়েছে জানার চেষ্টা করে। প্রথমে সামান্য তথ্য মিললেও দীর্ঘদিন ট্র্যাক এর পর ব্যবহারকারীর বিষদ তথ্য জমা করতে থাকে তারা। ধীরে ধীরে নানা গোপন তথ্য চুরি করতে থাকে তারা। ইলেকট্রনিক ফ্রন্টয়ার ফাউন্ডেশন(ই এফএফ) এর সিনিয়র সিকিউরিটি রিসার্চ হেড এ বিষয়ে বলেন কোনো ভালো কাজে না লাগলেও এই প্রকার অ্যাপগুলি তে ভর্তি প্লে স্টোর।
কী ভাবে কাজ করে এই অ্যাপগুলি এই অ্যাপ্লিকেশনগুলি খুব সহজেই মন জয় করে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের। এ ক্ষেত্রে এরা কিছু লভনীয় ফাঁদ পাতে। এরা বিজ্ঞাপন দেয় এই বলে যে,অ্যাপ্লিকেশনগুলি ব্যবহার করলে অন্যরা কখন ঘুমাচ্ছে, কখন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করছে, এমনকি কার সঙ্গে কথা বলছে সেটাও বোঝা যাবে। এ ক্ষেত্রে এই অ্যাপগুলি বহুজনের অ্যাক্টিভিটি লগকে কাজে লাগিয়ে কে কার সঙ্গে কথা বলছে, সেটা জানার চেষ্টা করে।
এই ট্র্যাকিং অ্যাপ যারা ব্যবহার করছে, তারা অন্যদের গতিবিধি জানার জন্য এই অ্যাপে বন্ধুবান্ধবের ফোন নম্বর এন্ট্রি করে। তার পর ওই অ্যাপ টার্গেট অর্থাৎ যার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে, তার গতিবিধি ট্র্যাক করতে থাকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কতক্ষণ অনলাইন রয়েছেন, কতক্ষণ ফোন ব্যবহার করছে সমস্ত কিছু ট্র্যাক করতে থাকে। এর মাঝেই শুরু হয় তথ্যচুরি।এই অ্যাপগুলি নিজেদের হেল্পিং টুল হিসেবে দাবি করে। যেমন, অনেক সময় বাচ্চা-বাচ্চা ছেলে-মেয়েদের উপর নজর রাখার জন্য বাবা-মায়ের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অ্যাপ হিসেবে নিজেদের মার্কেটিং করতে শুরু করে অ্যাপগুলি। আর এই ফাঁকেই তথ্যচুরির জাল বুনতে থাকে তারা।


এই স্পাইওয্যার অ্যাপ্লিকেশনগুলিকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যেতে পারে। অনেকঅ্যাপের ক্ষেত্রে গুগল প্লে স্টোরে কয়েক লক্ষ ডাউনলোডারের চোখ ধাঁধানো পরিসংখ্যানও দেওয়া থাকে। তাই ব্যবহারকারীদের ঠকাতে এই অ্যাপগুলির বেশি সময় লাগে না। সম্প্রতি হােয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই চ্যাটিং অ্যাপ্লিকেশন তাদের ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা সর্বদা রক্ষা করে তারা। ব্যবহারকারীদের প্রােফাইল ফটো, লাস্ট সিন এবং অ্যাবাউট স্ট্যাটাস সমস্ত কিছুই সুরক্ষিত রাখছে তারা।হােয়াটসঅ্যাপের অটোমেটেড অ্যান্টি অ্যাবিউজ সিস্টেম এই হ্যাকিং অ্যাপগুলিকে চিহ্নিত করতে সমর্থ এবং সেগুলি ব্লক করতেও পারে। এর আগেও এই ধরনের অ্যাপ ব্লক করা হয়েছে। পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপের অনুরোধ , অন্যান্য অ্যাপস্টোরগুলিও যেন এই অ্যাপগুলির প্রতি নজর রাখে এবং প্রয়োজনে সেগুলিকে সরানোর জন্য কড়া পদক্ষেপ করে।
আপনার উপর কেউ নজরদারি করছে নাতো? তবে হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত অনলাইন ফিচারগুলি বন্ধ করার কোনও রকম সুবিধা দেয়নি ব্যবহারকারীদের। তাই সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে এই অ্যাপগুলি থেকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনও উপায় নেই। ফেসবুকের প্রচেষ্টার পরও এই ধরনের অ্যাপ্লিকেশনগুলি বেশি মাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে এবং খুব সহজেই যে কোনও অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যায়। এ নিয়ে এক সংবাদ মাধ্যম ইতিমধ্যে এই হ্যাকিং অ্যাপ্লিকেশনগুলির ডেভেলপারদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কারও কোনও বক্তব্য মেলেনি। প্রসঙ্গত, যে স্টকারওয্যার অ্যাপগুলির প্রয়ােজনীয় সম্মতিপত্র নেই, সম্প্রতি সেগুলির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে গুগল। এই অ্যাপগুলি যে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ট্র্যাক করছে, সেই মর্মেও একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তাই ভুল করেও এই ধরনের ফাদে পা দেবেন না।সতর্ক থাকুন। নিজের গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করুন।







