মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। দিল্লিতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন প্রশাসন ও সংগঠনের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তুলতে চাইছে, আর সেই লক্ষ্যেই চলছে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক করেন শমীক ভট্টাচার্য। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, বাংলার সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণই ছিল সেই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়।


দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে সংগঠনের মতামতকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেই কারণেই শমীকের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা এখন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু ভূপেন্দ্র যাদবই নন, বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনশলের সঙ্গেও শমীক ভট্টাচার্যের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেখানেও মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ এবং সাংগঠনিক ভারসাম্য নিয়েই মূলত আলোচনা হবে।
বিশেষ করে ২০২৬ সালের রাজনৈতিক সমীকরণ মাথায় রেখেই বিজেপি এখন রাজ্যে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। তাই নতুন মুখ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য— এই তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


একই সময়ে দিল্লিতে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁরও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে পারে। কোন দপ্তরে কাকে দায়িত্ব দিলে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব, সেই হিসাবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ শুধুমাত্র প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং বাংলায় বিজেপির দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
দলের অন্দরে কোন অঞ্চল, কোন গোষ্ঠী বা কোন মুখকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়েও শীর্ষ নেতৃত্ব অত্যন্ত সতর্কভাবে হিসাব কষছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। ফলে দিল্লির এই ধারাবাহিক বৈঠক এখন রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে বাড়তি তাৎপর্য তৈরি করেছে।



