নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যে আবার ভাল নাম্বার পেয়েও চাকরি না পাওয়ার হতাশায় আত্মঘাতী হলেন যুবক। সুইসাইড নোটে আত্মঘাতী চাকরিপ্রার্থী সরাসরি দায়ী করে গিয়েছেন রাজ্য সরকার ও সমাজ কে। নিম্নবিত্ত পরিবারের ২৪ বছরের মেধাবী যুবক, বাবু দলুই সুইসাইড নোটে লিখেছেন, “আমি, বাবু দলুই, বিদায় নিচ্ছি। আমাদের সমাজ ও রাজ্য খুব খারাপ”। বিছানার চাদর গলায় জড়িয়ে আত্মহত্যা করেছেন বাবু।
আরও পড়ুনঃ ভয়াবহ দুর্যোগের কবলে দেবভূমি, মৃত্যু বেড়ে ৫৬, আটক বাংলার বহু পর্যটক


২৪ বছরের বাবু দলুই মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার বড়া গ্রামের হতদরিদ্র দিনমজুর পরিবারের ছেলে। খুব কষ্ট করে দ্রারিদ্রর বিরুদ্ধে লড়াই করে তাঁর বেড়ে ওঠা। বাবু দলুই এর বাবা হৃদরােগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান প্রায় ৭ বছর আগে। বাবু’র মাও মারা যান ২ বছর আগে। আর এবার এই সমাজ এবং রাজ্যের প্রতি একরাশ ক্ষোভ বুকে চেপে অজানার দেশে পাড়ি দিলেন বাবুও।
আত্মঘাতী চাকরিপ্রার্থী বাবু দলুই এর প্রাপ্ত নাম্বার জানলে চমকে যাবেন। মাধ্যমিকে ৭৮ শতাংশ, উচ্চ মাধ্যমিকে ৭৫ শতাংশ নিয়ে পাশ করার পর ইংরেজিতে স্নাতক হয়ে বাবু দলুই সরকারি কেন্দ্র থেকে সম্পূর্ণ করেছিলেন প্রাথমিক শিক্ষকের ডিএলএড’র প্রশিক্ষণ। দিনমজুরি করে নিজের খরচ চালিয়ে একের পর এক চাকরির পরীক্ষায় বসতেন বাবু। পিএসসি ক্লার্কশিপের চূড়ান্ত তালিকায় ছয় হাজারের মধ্যে নাম ছিল তাঁর। তবে চাকরি মেলেনি।
‘আমাদের সমাজ ও রাজ্য খুব খারাপ’, একরাশ হতাশা বুকে আত্মঘাতী চাকরিপ্রার্থী।

কারন হিসেবে এলাকাবাসীরা জানান, মেধাতালিকা বাতিল করে দেয় পাবলিক সার্ভিস কমিশন(PSC)। কিছুদিন পর আবার মেধা তালিকা প্রকাশিত হয়। সেখানে দেখা যায় বাবুর নাম রয়েছে ১৮ হাজারে। মেধাতালিকা দেখে বাবুর আনন্দ পরিণত হয় মানসিক অবসাদে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, নিপাট ভাল ছেলে বাবু। সে সারাদিন পড়াশনা আর কাজ নিয়েই থাকত। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকে স্টার পেয়ে পাড়ার মুখ উজ্জ্বল করেছিল সে। কিন্তু ভাল নাম্বার পেয়েও চাকরি না পাওয়ার হতাশায় প্রাণ দিল বাবু।










