বিধানসভা ভোট যত এগোচ্ছে, ততই উত্তাল হয়ে উঠছে বঙ্গ রাজনীতি। ক্ষমতাসীন শিবিরের অন্দরমহলের ক্ষোভ এবার প্রকাশ্য মঞ্চে। তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব চূড়ান্ত করে নতুন দল গড়ে সরাসরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ব্রিগেডে সভার অনুমতি না মেলায় এবার কলকাতার বদলে মুর্শিদাবাদেই শক্তি প্রদর্শনের ঘোষণা তাঁর।
তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার পর হুমায়ুন কবীর সদ্য গঠন করেছেন ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’। দল গড়েই ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে শতাধিক আসনে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন তিনি। সেই লক্ষ্যেই আগামী ১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড-এ বিশাল জনসভার ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু শুক্রবার সেনা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ব্রিগেডে কোনও রাজনৈতিক সভার অনুমতি দেওয়া হবে না।

এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হুমায়ুন কবীর জানান, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই সেনার কাছে আবেদন করা হয়েছিল। সেনা দপ্তরে বৈঠক হলেও শেষ পর্যন্ত অনুমতি মেলেনি। বিকল্প হিসেবে শহিদ মিনারে সভার প্রস্তাব দেওয়া হলেও, বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে তাতে আপত্তি তাঁর দলের। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অন্য কোনও রাজনৈতিক দল ব্রিগেডে সভার অনুমতি পায় কি না, সেদিকেও নজর রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বর মাসে ব্রিগেডে আরএসএস-ঘনিষ্ঠ সংগঠন সনাতনী সংস্কৃতি পরিষদের উদ্যোগে লক্ষাধিক মানুষের গীতাপাঠের আয়োজন হয়েছিল। সেই ঘটনার পরই হুমায়ুন ঘোষণা করেছিলেন, ১০ লক্ষ কণ্ঠে কোরাণপাঠের আয়োজন করবেন। কিন্তু ব্রিগেডে সেই কর্মসূচির অনুমতি না মেলায় এবার সুর আরও চড়া।
ব্রিগেড-পর্বে ইতি টেনে এবার সরাসরি তৃণমূল ও বিজেপিকে নিশানা করেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর ঘোষণা, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি মুর্শিদাবাদ-এর ৫০ বিঘা জমিতে বিশাল জনসভা হবে। দাবি, সেখানে ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত হবে। নতুন দল গঠনের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলের কটাক্ষের মুখে পড়েছে জনতা উন্নয়ন পার্টি। সেই জবাব দিতেই এই শক্তি প্রদর্শনের কৌশল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন প্রশ্ন একটাই— ১ ফেব্রুয়ারি মুর্শিদাবাদের মাঠে হুমায়ুন কবীর কতটা বড় চমক দিতে পারেন।










