এবার বাংলাদেশ থেকে চট্টগ্রামকে আলাদা করার হুঙ্কার উঠল ইউনুসের দেশেই

ওসমান হাদি হত্যার বিচার চেয়ে চট্টগ্রামে বিক্ষোভে চরম হুঁশিয়ারি। অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে বিচ্ছিন্নতার স্লোগানে আরও উত্তপ্ত বাংলাদেশের রাজনীতি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

যে বাংলাদেশে কিছুদিন আগেই ভারতের উত্তর-পূর্বের ‘সেভেন সিস্টার্স’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে তুঙ্গে উঠেছিল রাজনৈতিক উত্তাপ, সেই দেশেই এবার আরও বিস্ফোরক স্লোগান। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির হত্যার বিচার চেয়ে চট্টগ্রামের রাজপথে এমন হুঙ্কার উঠল, যা গোটা দেশের রাজনীতিতে নতুন করে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে— ‘চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে আলাদা করে দেওয়া হবে’।

গত ডিসেম্বর মাসে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ওসমান হাদি-র। সেই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে শুক্রবার বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ-মিছিলের আয়োজন করে ইনকিলাব মঞ্চ। চট্টগ্রাম নগর এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ডাকে হওয়া একটি মিছিল থেকেই উঠে আসে এই চরম হুঁশিয়ারি।

মিছিলের আগে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রামের প্রাক্তন নেতা ইবনে হোসেন জিয়াদ। তাঁর অভিযোগ, হাদি হত্যার বিচার নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার টালবাহানা শুরু করেছে। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, বিচার না হলে প্রয়োজনে আইন উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং ইন্টেরিম সরকারকে অপসারণের দাবিতে আন্দোলনে নামা হবে।

এই প্রসঙ্গে ফের আলোচনায় এসেছে ওসমান হাদির পরিবার। কিছুদিন আগেই নিহতের দাদা ওমর হাদি অভিযোগ করেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই তাঁর ভাই খুন হয়েছেন, ফলে নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় সরকারকেই নিতে হবে। সেই অভিযোগের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জানা যায়, ইউনুস সরকার ওমর হাদিকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সহকারী দূতাবাসে দ্বিতীয় সচিব পদে নিয়োগ করেছে— যা ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

এদিন শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকা সহ বাংলাদেশের একাধিক জায়গায় হাদি হত্যার চার্জশিট ও তদন্তের গতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন আন্দোলনকারীরা। চট্টগ্রামে জুলাই ঐক্য চট্টগ্রামের প্রধান সমন্বয়কারী আবরার হাসান রিয়াদ অভিযোগ করেন, তড়িঘড়ি চার্জশিট দেওয়া হয়েছে এবং তাতে ভুল তথ্য রয়েছে। তাঁর দাবি, মূল অভিযুক্তদের চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে গ্রেফতার ও বিচার না হলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাবে আন্দোলন।

সবচেয়ে তীব্র বক্তব্য শোনা যায় ইনকিলাব মঞ্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক রাফসান রাকিব-এর কণ্ঠে। তিনি বলেন, “ইন্টেরিম যদি আমাদের সঙ্গে টালবাহানা করতেই থাকে, তাহলে এই চট্টগ্রাম থেকেই ঘোষণা করছি— চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।” এই মন্তব্যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে অশান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন