ভোটের আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল ব্রিগেডে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান। শনিবার ভোর থেকেই ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ভক্তদের ভিড় আছড়ে পড়তে থাকে। আয়োজকদের দাবি, আজ অন্তত ৫ লক্ষ মানুষ একসঙ্গে গীতাপাঠে অংশ নেবেন। এমন বিশাল আয়োজনকে ঘিরে সকাল থেকেই গোটা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে।
দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে ২৫টি গেট তৈরি করা হয়েছে। মঞ্চ রয়েছে মোট তিনটি—একটি মূল মঞ্চ এবং তার দুই পাশে আরও দুইটি। সামনের একটি মঞ্চে চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, থাকছে জায়ান্ট স্ক্রিনও। ব্রিগেডে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে বেদ পাঠ ও গীতা আরতির মাধ্যমে। শাঁখ, উলুধ্বনি, ঢাক-খোলের সুরে মুখরিত হয়েছে মাঠ।
ভোটের আগে রাজনীতির ‘ধর্মযুদ্ধ’ ব্রিগেডে, ৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে শুভেন্দু-সুকান্ত-শমীক

কোন কোন অধ্যায় পাঠ? কীভাবে চলছে আজকের গীতাপাঠ
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ গীতার প্রথম, নবম এবং অষ্টাদশ অধ্যায়ের পাঠ হবে। গীতাকে মঞ্চে প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং বেদীয় রীতিতে আরতি করা হবে। প্রায় সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গীতাপাঠ চলবে। এরপর শুরু হবে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, উপদেশ ও প্রবচন।
ব্রিগেডে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান রাজ্যজুড়ে তুমুল আগ্রহ তৈরি করেছে, বিশেষ করে ভোটমুখী বাংলায় ধর্মীয় আবহের এমন বৃহৎ আয়োজনকে অনেকেই রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখছেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করছেন গীতা মনীষী মহামণ্ডলের স্বামী জ্ঞানানন্দজি মহারাজ। প্রধান অতিথি হিসাবে হাজির সাধ্বী ঋতম্ভরা। সম্মানীয় অতিথির আসনে রয়েছেন বাবা রামদেব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ধাম সরকারের পীঠাধীশ্বর ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী।
মঞ্চে থাকবেন আয়োজনের প্রধান কর্তা স্বামী প্রদীপ্তানন্দ (কার্তিক) মহারাজ, নির্গুনানন্দ ব্রহ্মচারী, বন্ধুগৌরব দাস মহারাজসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধু-সন্তরা। VIP আসনে সামনে সোফায় বসবেন সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য। তাঁদের পিছনে লাল রড আয়রনের চেয়ারে বসবেন অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা।
ভক্তদের সুবিধায় বিশেষ ট্রেন—ভিড় সামলাতে প্রস্তুত পূর্ব রেল
এত বড় জমায়েত সম্ভাবনা মাথায় রেখে পূর্ব রেল ব্যবস্থা করেছে বিশেষ ট্রেন। শিয়ালদহ ও হাওড়া—দুই শাখায়ই চলছে বিশেষ লোকাল। নিম্নলিখিত রুট থেকে ভক্তরা বিশেষ ট্রেনে ব্রিগেডমুখী হচ্ছেন— কৃষ্ণনগর, শান্তিপুর, বনগাঁ, হাসনাবাদ, লক্ষ্মীকান্তপুর, ডায়মন্ড হারবার ও ক্যানিং।
ভোর থেকে এই ট্রেনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই জানান, সকাল থেকেই ট্রেনে দাঁড়ানোর মতো জায়গা ছিল না।
হাওড়া স্টেশনের বাইরে সহায়তা কেন্দ্র—ভক্তদের জন্য ২৪ ঘণ্টার ক্যাম্প
হাওড়া স্টেশনের বাইরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী পরিষদের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে দুটি সহায়তা শিবির।
দূরদূরান্ত থেকে যারা ব্রিগেডে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানের জন্য আসছেন, তাঁদের গন্তব্যস্থল, রুট, পরিবহন—সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। মানুষ স্টেশন থেকে সরাসরি ক্যাম্পে গিয়ে দিকনির্দেশ নিচ্ছেন, তারপর ফেরি বা বাসে ব্রিগেডের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন।
বাংলার ভোটের আগে ধর্মীয় আবহের এই বিশাল আয়োজনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিরাট ভিড়, জনপ্রিয় সাধুর উপস্থিতি, শীর্ষ নেতাদের আগমন—সব মিলিয়ে ব্রিগেডে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান শুধু ধর্মীয় নয়, একটা রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ভক্তদের মতে—আজকের জমায়েত রাজনৈতিক নয়, বরং আধ্যাত্মিক।
সনাতন সংস্কৃতির প্রচার, গীতা পাঠের মাধ্যমে শুভশক্তির আহ্বান—এই বিশ্বাসেই তাঁরা ব্রিগেডে যোগ দিয়েছেন।



