নজরবন্দি ব্যুরোঃ নাম না করে তৃণমূলের দিল্লি অভিযান নিয়ে খোঁচা দিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। আজ, গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষ্যে ব্যারাকপুরের গান্ধীঘাটে উপস্থিত ছিলেন তিনি। কর্মসূচি শেষ করে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয় তৃণমূলের দিল্লি অভিযান প্রসঙ্গে। শুনেই বোস হাত জোড় করে বলেন, “সবকো সম্মতি দে ভগবান” অর্থাৎ, সকলেরই অন্তত একবার সুযোগ পাওয়া উচিৎ! তার মানে তৃণমূলের এই কর্মসূচি রাজনৈতিক ভাবে কোনও প্রভাব ফেলবে না বলেই কি বোঝাতে চাইলেন তিনি? যদিও রাজ্যপাল কিন্তু তৃণমূলের নাম উল্লেখ করে কিছু বলেননি।
আরও পড়ুনঃ রাজধানীতে তৃণমূলকে ‘চোখে চোখে’ রাখছে শাহী পুলিশ, বাপুকে ‘স্মরণ’ করে অহিংসাই মন্ত্র অভিষেকের
আজ ২রা অক্টোবর অর্থাৎ গান্ধী জয়ন্তী। এই দিনে প্রত্যেক বছরই দায়িত্বে থাকা রাজ্যপাল যান ব্যারাকপুরের গান্ধীঘাটে। বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হয় বাপুজীর জন্মদিবস। এ বছরও তার অন্যথা হয়নি। সক্কাল সক্কাল গান্ধীঘাটে পৌঁছে বাপুজীর মূর্তিতে ফুল অর্পণ করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। ‘বাপুজি’র প্রিয় রামধনু সংগীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব, রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ-সহ জেলাশাসক এবং মহকুমা শাসক।

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগে সোম ও মঙ্গলবার দিল্লিতে ধরনা ও বিক্ষোভ কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের। সেই কারণে বাসে করে রাজধানীতে গিয়েছেন ৩-৪ হাজার তৃণমূল কর্মী সমর্থক ও একশো দিনের কাজের জব হোল্ডাররা। সেখানে উপস্থিত রয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দলের প্রথম সারির সমস্ত নেতারা।
জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে কর্মী সমর্থক ও একশো দিনের কাজের কার্ড হোল্ডারদের নিয়ে নরতুন সংসদ ভাবন অর্থাৎ সেন্ট্রাল ভিস্তার সামনে জমায়েত করার পরিকল্পনা স্থির হয়েছে। কারণ, কেন্দ্র সরকারকে বোঝানো হবে, নতুন ভবন তৈরি করতে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও গরীব মানুষকে টাকা দেওয়া হচ্ছে না।

এরপর দুপুর দেড়টা নাগাদ রাজঘাটে ‘সত্যাগ্রহ’ আন্দোলন করা হবে। প্রথমে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর সেখানেই ঘণ্টা দুয়েক ধরনা। উপস্থিত থাকবেন দলের শীর্ষ নেতারা সকলে। তৃণমূল সূত্রে খবর, সোমবার কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী গিরিরাজ সিংহের সঙ্গে দেখা করার কথাও রয়েছে তৃণমূল নেতৃত্বের।
পরোক্ষভাবে তৃণমূলের দিল্লি অভিযান নিয়ে কটাক্ষ রাজ্যপালের, কী বললেন বোস?
রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত কোনও নতুন বিষয় নয়। তাই তৃণমূলের দিল্লি অভিযান নিয়ে রাজ্যপালের কটাক্ষও অপ্রত্যাশিত ছিল না। এদিন সিভি আনন্দ বোস বললেন, “সবকো সম্মতি দে ভগবান”। যদিও তৃণমূল নেতা রথীন ঘোষ পাল্টা কোনও বয়ান দেননি। তিনি বলেছেন, “আজকের দিনটা শুধুমাত্র গান্ধিজীর জন্য”।




