নজরবন্দি ব্যুরোঃ রবিবার রাতেই দিল্লিতে পা রেখেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের প্রথম সারির প্রায় সমস্ত সাংসদ থেকে শুরু করে নেতারা। নৈশভোজের পর আন্দোলনের রূপরেখাও প্রস্তুত করে দিয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড। নেতাদের পর পরই কিন্তু দিল্লিতে একের পর এক বাস ঢুকছে তৃণমূলের। সেই বাসেই রয়েছেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ও একশো দিনের কাজের জব হোল্ডাররা। এদিনে দিল্লির আম্বেদকর ভবনে তাঁরা পৌঁছনোর প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সেখানে হাজির হয়ে যায় দিল্লি পুলিশ!
আরও পড়ুনঃ দিল্লি পৌঁছেই জরুরি বৈঠক, আন্দোলনের আগে অভিষেকের নেতৃত্বে উজ্জীবিত তৃণমূল
দিল্লি পুলিশের তরফে শুরুতেই জানতে চাওয়া হয়, এই বাসে করে কারা কারা এসেছেন সেই সব তথ্য। পাশাপাশি, দিল্লিতে তাঁদের গতিবিধি কী হতে পারে, এই সমগ্র ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে কে রয়েছেন সব কিছুরই খুঁটিনাটি জিজ্ঞেস করা হয়েছে বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। এই মুহূর্তে আম্বেদকর ভবনেই রয়েছেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ও একশো দিনের কাজের জব হোল্ডাররা। সেখানেই খোলা হয়েছে একটি হেল্প ডেস্ক। আজ এখান থেকেই প্রথমে নতুন সংসদ ভবন অর্থাৎ সেন্ট্রাল ভিস্তা এবং পরে রাজঘাটে অবস্থান বিক্ষোভ করতে যাবেন তাঁরা। পরিকল্পনা স্থির করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলের দিল্লি অভিযানের আগে সতর্ক করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছিলেন, “যন্তর মন্তরে যা খুশি করুন, এপাং, ওপাং ঝপাং, আমরা সবাই কোলা ব্যাঙ, যন্তর মন্তরের বাইরে কিছু করতে যান, ওখানে কিন্তু বিনীত গোয়েল নেই, ওখানে আছে অমিত শাহের পুলিশ, তাঁদের লাঠির সাইজ ৬ ফুট।”

অন্যদিকে, সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এক্স (পূর্বতন ট্যুইটার) হ্যান্ডলে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বৈঠকের কথা উল্লেখ করে লেখেন, “জন্মদিবসে বাপুকে স্মরণ করছি। তাঁর সত্য এবং অহিংসার আদর্শ শুধু আমাদের অতীতকেই তৈরি করে দেয়নি, ভবিষ্যতের পথকেও অলঙ্কৃত করে যাচ্ছে।” যদিও তৃণমূলের এই দিল্লি অভিযান কতটা শান্তিপূর্ণ হয় তা বোঝা যাবে আন্দোলন শুরু হবার পর।
Remembering Bapu on his birth anniversary!
His principles of truth & non-violence have not only shaped our past but continue to illuminate our path forward in the relentless pursuit of justice & equality.
On this Gandhi Jayanti, let's embrace his principles in all our actions.
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) October 2, 2023
রাজধানীতে তৃণমূলকে ‘চোখে চোখে’ রাখছে শাহী পুলিশ, বাপুকে ‘স্মরণ’ করে অহিংসাই মন্ত্র অভিষেকের
দু’দিন ব্যাপী আন্দোলনের আগে রবিবার রাতে সাংসদ সৌগত রায়ের বাসভবনে জরুরি বৈঠক করেছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবারের যা যা কর্মসূচির পরিকল্পনা আগে করা ছিল, কী ভাবে তা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের প্রথম সারির সমস্ত সাংসদ এবং নেতারা। আন্দোলনের রূপরেখাও স্থির হয়েছে এই বৈঠকের মাধ্যমেই এমনটাই খবর তৃণমূল সূত্রে।
জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে কর্মী সমর্থক ও একশো দিনের কাজের কার্ড হোল্ডারদের নিয়ে নরতুন সংসদ ভাবন অর্থাৎ সেন্ট্রাল ভিস্তার সামনে জমায়েত করার পরিকল্পনা স্থির হয়েছে। কারণ, কেন্দ্র সরকারকে বোঝানো হবে, নতুন ভবন তৈরি করতে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও গরীব মানুষকে টাকা দেওয়া হচ্ছে না।

এরপর দুপুর দেড়টা নাগাদ রাজঘাটে ‘সত্যাগ্রহ’ আন্দোলন করা হবে। প্রথমে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর সেখানেই ঘণ্টা দুয়েক ধরনা। উপস্থিত থাকবেন দলের শীর্ষ নেতারা সকলে। তৃণমূল সূত্রে খবর, সোমবার কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী গিরিরাজ সিংহের সঙ্গে দেখা করার কথাও রয়েছে তৃণমূল নেতৃত্বের।




