বলিউডে ফের এল দুঃসংবাদ। প্রয়াত হলেন প্রবীণ অভিনেতা, প্রযোজক এবং পরিচালক ধীরজ কুমার। মুম্বইয়ের ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে মঙ্গলবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
পরিবার সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন। গত শনিবার ঠান্ডা ও কাশির সমস্যা বাড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার রাতে অবস্থার অবনতি ঘটে। পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়।
চলচ্চিত্র জগতে ধীরজ কুমারের যাত্রা ও অবদান
ধীরজ কুমার ১৯৬৫ সালে প্রথম পা রাখেন হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে। এক সময় সুভাষ ঘাই ও রাজেশ খান্নার সঙ্গেও প্রতিযোগিতা করেছিলেন একটি ট্যালেন্ট হান্টে। নিজের অনন্য অভিনয় দক্ষতা দিয়ে খুব দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন।
তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
‘স্বামী’
‘কিয়া কারু সাজনি আয়ে না বালাম’
২১টি পাঞ্জাবি ছবি, যেখানে তিনি সফলভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
তিনি শুধুই একজন অভিনেতা ছিলেন না, বরং সফল প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবেও নিজের স্থান তৈরি করেন। তাঁর অনেক কাজ আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে রয়ে গেছে।
একজন ভক্ত, একজন ভদ্র মানুষ
কিছুদিন আগেই তাঁকে দেখা গিয়েছিল মুম্বইয়ের ইসকন মন্দিরের উদ্বোধনে। সেখানেই সংবর্ধনা মঞ্চে বলেছিলেন—“আমি এখানে এসেছি একজন সাধারণ ভক্ত হিসেবে। ঈশ্বরই আমার কাছে সবচেয়ে বড় ভিভিআই।” এই মন্তব্যে তাঁর আত্মিকতা ও সরলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একাধারে ভক্ত, শিল্পী ও ভদ্রলোক হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।
পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিক্রিয়া
অভিনেতার পারিবারিক বন্ধু অজয় শুক্লা সংবাদমাধ্যমকে জানান,“ধীরজজি ছিলেন একেবারে হাসিখুশি, আত্মিক একজন মানুষ। আমরা সকলেই গভীরভাবে শোকাহত।” তিনি আরও বলেন, “এই সময় আমাদের একটাই আবেদন—ধীরজজির আত্মার শান্তির জন্য সকলে প্রার্থনা করুন।”
ধীরজ কুমার: এক বহুমাত্রিক প্রতিভা
অভিনয়, প্রযোজনা, পরিচালনা—সব ক্ষেত্রেই তাঁর স্পর্শ ছিল অসাধারণ। তিনি চলচ্চিত্রের সঙ্গে শুধু যুক্ত ছিলেন না, বরং চলচ্চিত্র ছিল তাঁর সাধনা। এই প্রয়াণে বলিউড হারাল এক অভিজ্ঞ শিল্পীকে, যিনি পর্দার পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও এক অনুপ্রেরণা ছিলেন।
ধীরজ কুমারের বিদায়ে বলিউডে এক অপূরণীয় ক্ষতি
ধীরজ কুমারের প্রয়াণে আরও একবার প্রমাণিত হল—চলচ্চিত্রজগতের নক্ষত্রেরা চিরকাল দর্শকদের হৃদয়ে বেঁচে থাকেন। তিনি নেই, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি রয়ে গেল—সব সময়ের জন্য।



