নজরবন্দি ব্যুরোঃ আমিও উডবার্নে ভর্তি হব, এভাবেই পিজি হাসপাতালের সামনে আবদার করলেন শোভনের প্রিয় বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল ব্যাংশাল কোর্টে শোভনের জামিন হয়েছে এই খবর পেয়ে বৈশাখী ‘দিদি’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়গান করতে থাকেন। কিন্তু খেলা বদলে যায় কয়েক ঘন্টার মধ্যেই। কলকাতা হাইকোর্ট ৪ অভিযুক্তের জামিনে স্থগিতাদেশ দেয়। ফলে রাতেই জেলে যেতে হয় ফিরহাদ হাকিম, শোভন চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং মদন মিত্রকে।
আরও পড়ুনঃ আমফানের থেকেও তীব্র ঘুর্ণিঝড় ‘যশ’ আসছে, ২৩ তারিখে তাণ্ডব চলবে বাংলায়।
গতকাল সকাল থেকেই খবরের শিরোনাম দখল করেছিল নারদ কান্ড। রাজ্যের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক মদন মিত্র এবং তৃণমূল-ত্যাগী কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে সিবিআইয়ের তরফে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় নিজাম প্যালেসে। পরে গ্রেফতার করা হয় ৪ জনকেই। শোভনের গ্রেফতারির খবর পেয়ে বেহালা পূর্বের নব নির্বাচিত বিধায়িকা অর্থাৎ শোভন জায়া রত্না দৌড়ে যান সিবিআই দফতরে।
অন্যদিকে দলের নেতাদের গ্রেফতারিতে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ধর্ণায় বসেন একেবারে নিজাম প্যালেসের অন্দরে। পরে চার জনের জামিনের খবর পাকা করে ধর্না তোলেন মমতা! ব্যাস এতেই গলে যান বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি চরম আনুগত্য প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “শোভনের পাশে যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী এসে দাঁড়ালেন, ওনার জন্য আমি আজ থেকে প্রাণ দিতেও প্রস্তুত।” বৈশাখী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী দেখিয়ে দিলেন যে, উনি ক্যাপ্টেন। তিনি যে সবার মুখ্যমন্ত্রী সেটা আবারও একবার প্রমাণ করলেন।” কিন্তু তারপরেই বদলে যায় চিত্র। জামিন খারিজ হয়ে শোভনের ঠিকানা হয় প্রেসিডেন্সি জেল।
রাতেই জেলের বাইরে পৌঁছে যান বৈশাখী। কাঁদতে কাঁদতে চিৎকার করে বলতে থাকেন তাকেও জেলে নিয়ে যেতে হবে। অন্যথায় সেখানেই প্রাণত্যাগ করবেন। যদিও পরে সেখান থেকে চলে আসেন তিনি। এরপর শরীর খারাপ হয় নারদে ধৃত ৩ নেতার। সবাররই ঠিকানা এখন পিজি হাসপাতালের উডবার্ণ ওয়ার্ড। আমিও উডবার্নে ভর্তি হব, এভাবেই পিজি হাসপাতালের সামনে আবদার করলেন শোভনের প্রিয় বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে খবর পাওয়া যায় শভনের মুক্তি চেয়ে তিনি ফোন করেছেন বিজেপি রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার কে। যদিও জানা গিয়েছে বৈশাখীর আবেদনে সাড়া দেননি জয়প্রকাশ মজুমদার।








