নজরবন্দি ব্যুরোঃ তৃণমূল থেকে আসা নেতারা নাকি চাইছেন বিজেপি হেরে যাক! বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বৈশাখী। তাঁর বন্ধু শোভন লড়ার সুযোগ পাননি স্ত্রী রত্নার বিরূদ্ধে, সেই অভিমানেই ১৪ই মার্চ প্রিয় বান্ধবী বৈশাখীর হাত ধরে BJP ছেড়েছেন অভিমানী শোভন। জল্পনা ছিল এবার বেহালা পূর্ব কেন্দ্রে একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়বেন স্বামী স্ত্রী। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়। কয়েকদিন আগেই তৃণমূল নিজেদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করছে। আর তাতে তৃণমূলের বেহালা পূর্বের প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়। নাম ঘোষণা করে তৃণমূল সুপ্রিমো জানিয়েছিলেন নারী সুরক্ষার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। এতদিন তৃণমূলের হয়ে ওই কেন্দ্র থেকে লড়তেন শোভন চট্টোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ ১৯ শে মার্চ নয়, ভোটের আগে শেষবেলায় নন্দীগ্রাম যাবেন ‘বাংলার মেয়ে’ মমতা।
গুঞ্জন তখন থেকেই ছিল, এবার কি তাহলে লড়াই হবে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে। যদিও বিজেপি সূত্রের খবর প্রথম থেকেই শোভনের জন্য বিকল্প কেন্দ্রের কথা বলেছিল দল। দুদিন আগে যখন তৃতীয় এবং চতুর্থ দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বিজেপি। তাতে দেখা যায় বেহালা পূর্ব থেকে বিজেপির প্রার্থী করা হয়েছে অভিনেত্রী পায়েল সরকারকে। আর এই ঘোষণার পর থেকেই বেঁকে বসেছেন শোভন। অভিমানে বিজেপি ছেড়েছেন প্রিয় বান্ধবীর হাত ধরে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন বেহালা পূর্ব ছাড়া অন্য কোনও কেন্দ্র থেকে লড়তে রাজি নন তিনি।
এতদিন ধরে বেহালায় লড়েছেন তিনি, সেখানের প্রতিটি মানুষকে, প্রতিটি পাড়াকে তাঁর চেয়ে ভালো কে চিনবে? তাহলে তাঁর পরিবর্তে কয়েকদিন আগে বিজেপিতে যোগ দেওয়া অভিনেত্রীকে প্রার্থী করা হলো কেনো? শুধু শোভন নয়, কয়েকদিন আগেই তাল কেটেছিল বৈশাখীকে কেন্দ্র করে। শোভন চেয়েছিলেন রায়দিঘিতে প্রার্থী হবেন প্রিয় বান্ধবী বৈশাখী। কিন্তু কয়েকদিন আগেই RSS এর পক্ষ থেকে জানিয়ে দিয়েছিল কোনোভাবেই প্রার্থী করা হবেনা বৈশাখীকে। রাজ্যের ২৯৪ আসনের কোনো কেন্দ্রেই টিকিট দেওয়া হয়নি তাঁকে। শোনা যাচ্ছিলো বেহালা পুর্ব থেকেই বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্দলে লড়তে সাহায্য করবেন তিনি।
এসব গুঞ্জনের মাঝেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মুহুর্তে বিজেপির প্রথম সারির একাধিক নেতা তৃণমূলের প্রাক্তন নেতামন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ শোভন চট্টপাধায়কে বারবার বিজেপি থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছে তাঁরই পুর্ব দলের কিছু সহকর্মী।বৈশাখী ইঙ্গিত দেন সর্ষের মধ্যেই ভূতের বাস। তাঁর ইঙ্গিত তৃণমূল থেকে আসা নেতারাই চাইছে বিজেপি হেরে যাক। তাঁর অভিযোগ, বেহালা পুর্ব থেকে রত্না দেবীকে জিতিয়ে দিতেই শোভন চট্টোপাধ্যায়কে টিকিট দেয়নি বিজেপি। এর আগেও একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় দাবী করেছিলেন বিজেপিতে থাকা কিছু নেতা তৃণমূলেরই এখনও। তাঁরাই নানা ভাবে বারবার তাঁর নামে অপপ্রচার করে থাকেন। এবার সেই একই মন্তব্য করেছেন তিনি। প্রথমে তৃণমূল এবং পরে বিজেপি, শোভন বৈশাখী দুজনেই একসঙ্গে থেকেছেন। বেরিয়েছেনও একই সঙ্গে। তৃণমূলে থাকাকালীনও বারবার একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এবার বিজেপি থেকে বেরিয়েও একই ছবি দেখা গেল।
শোভন চট্টোপাধ্যায়ের টিকিট না মেলা এবং সম্মান না পেয়ে দল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর সেই বিষয়ে আবার তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য তৃণমূল থেকে আসা বিজেপির বর্তমান নেতারা চাননা রত্না দেবীর বিপরীতে জিতুক শোভন। তাই তাঁকে দেওয়া হয়নি টিকিট। নিজের বক্তব্যের প্রমাণ হিসেবে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁর হাতে একটি অডিও ক্লিপ এসেছে, তাতে স্পষ্ট বেহালা পুর্বে রত্না দেবীকে জিততে সুবিধা করে দিতেই টিকিট দেওয়া হয়নি শোভনকে। এ বিষয়ে রত্না চট্টোপাধায় যদিও বেশি কিছু মন্তব্য করেননি। তাঁর বক্তব্য, তাহলে কি এবার মানসিক রুগী হয়ে যাচ্ছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়?



