দুই দশক পর ক্ষমতায় বিএনপি, প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে তারেক—বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের সূচনা

দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে তারেক রহমান, বাংলাদেশে শুরু হতে চলেছে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড়। প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি, আর দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উঠে আসছেন তারেক রহমান। সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে গিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট—যা প্রতিবেশী দেশটির রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটেয় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরই গণনা শুরু হয়। প্রাথমিক ফলেই পরিষ্কার হয়ে যায়, ৩০০ সদস্যের সংসদে সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার অনায়াসে অতিক্রম করেছে বিএনপি।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের হিসাবে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২০৯টি আসন পেয়েছে। ফলে জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে তারা। অন্যদিকে এএফপি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ১৫১ আসনের সীমা দ্রুতই পেরিয়ে যায় বিএনপি।

এই ফলাফল বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রায় সাড়ে তিন দশক পর দেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে চলেছেন একজন পুরুষ নেতা। দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময় বিদেশে স্ব-নির্বাসনে থাকার পর গত ডিসেম্বরেই দেশে ফেরেন তারেক রহমান, যা ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক বড় প্রত্যাবর্তন।

২০২৪ সালে যুব সমাজের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনার সরকার। সেই ঘটনার পর এই নির্বাচন ছিল প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। হাসিনা দেশ ছাড়ার পর আওয়ামী লীগের উপর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার নিষেধাজ্ঞা থাকায়, মূল লড়াই হয় বিএনপি ও তাদের প্রাক্তন মিত্র জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে।

জামায়াত-ই-ইসলামির প্রধান শফিকুর রহমান ইতিমধ্যেই পরাজয় মেনে নিয়ে জানিয়েছেন, তাঁরা ইতিবাচক বিরোধী রাজনীতি করবেন।

এই নির্বাচনের সঙ্গে ছিল সংস্কারের প্রশ্নও। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নামে পরিচিত ৮৪ দফা সংস্কার প্যাকেজের উপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নির্বাহী ক্ষমতার উপর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির মতো প্রস্তাব ছিল।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন মহম্মদ ইউনূস। তাঁর নেতৃত্বে প্রায় ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকার এই নির্বাচন আয়োজন করে। নির্বাচনের সময় ইউনূস সকল পক্ষকে শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

দেশজুড়ে ৪২ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয় এবং নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিল প্রায় ১০ লক্ষ কর্মী—যা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলে দাবি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভোটদানের হার আগের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হয়, কারণ এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে ভোট স্থগিত করা হয়েছিল। নির্দল-সহ দুই হাজারেরও বেশি প্রার্থী এই নির্বাচনে অংশ নেন।

বিজয়ের পূর্বাভাস সত্ত্বেও বিএনপি সমর্থকদের বিজয় মিছিল না করার আহ্বান জানিয়েছে। পরিবর্তে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় দেশের কল্যাণের জন্য বিশেষ প্রার্থনার ডাক দেওয়া হয়েছে।

আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার অপেক্ষা থাকলেও, বিএনপির এই বিপুল জয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণের সূচনা করছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বহু বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এই নির্বাচনকে নতুন পর্বের সূচনা হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন