নজরবন্দি ব্যুরোঃ সকাল কিংবা বিকেল, ব্যস্ততা কিংবা আড্ডা- এককাপ চা ছাড়া সারাদিনটাই যেন বেকার হয়ে যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা দুধ চা আর রং চায়ের সঙ্গে পরিচিত। এর বাইরে মাঝে মাঝে হয়তো গ্রিন টি নামক চা খাওয়া হয়। চায়ের প্রকারভেদ আছে তা সবাই জানে যেমন, তেমনি রঙিন চায়ের নামডাক রয়েছে বেশ বিশ্বজুড়ে। সে লাল, গোলাপি বা কালো যেমনি রঙ হোক না কেন। যেমন রঙ তার তেমন স্বাদ। আর সুগন্ধ যেন বহুদূর থেকে ভেসে আসে।
আরও পড়ুনঃ সৌরভের বাড়িতে হাজির রজনীকন্যা ঐশ্বর্য, ফের উস্কে দিল দাদার বায়োপিকের জল্পনা
এমন সুদৃশ্য, সুগন্ধী চা উৎপন্ন করছে ডুয়ার্স (Dooars)। ডুয়ার্সের চা-বাগানে অপরাজিতা ফুল দিয়ে তৈরি হচ্ছে নীল রঙের চা বা ব্লু টি (Blue Tea)। এছাড়াও রয়েছে জেমন জেসমিন টি, আদা চা, পুদিনা চা, তুলসি চা ইত্যাদি আমাদের কাছে অনেকটাই অচেনা। তেমনটাই অপরিচিত আরেকটি চা হলো অপরাজিতা ফুলের চা।

বিশ্বের বাজারে এমন চায়ের চাহিদা এখন তুঙ্গে। টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার অন্তর্গত ডুয়ার্সের ওই চা-বাগানে অন্যরকম চা উৎপাদনের নজির রয়েছে। এর আগে সেখানে হোয়াইট টি, মুনলাইট টি তৈরি করা হয়েছিল। এবার ব্লু টি উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে (Blue Tea)। ইতিমধ্যে সেই চা বাজারজাতও করা হচ্ছে।
নীল রঙের গন্ধহীন ফুল অপরাজিতা। চা তৈরির কাজে সেই ফুলকেই ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে চায়ের রঙ হচ্ছে এক্কেবারে নীল। এই চায়ের স্বাদ এতই ভাল যে দেশ-বিদেশে এমন চায়ের চাহিদা এখন তুঙ্গে।

সাধারণ চা তৈরির পদ্ধতি আর এই অপরাজিতা ফুলের ব্লু টি তৈরির পদ্ধতি বেশ আলাদা। এর জন্য দরকার পড়ে দুটি পাতা, একটি কুঁড়ি এবং অপরাজিতা ফুল। অন্যরকম এই চায়ের দাম শুনলে যদিও পকেটে ছ্যাঁকা লাগতে পারে। সাড়ে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয় এই চায়ের এক কেজি। এখনও ব্লু টি প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন চারদিকে শুরু হয়নি। তাই এত বেশি দাম।
বাজারে এলো নীল রঙের চা, যার উপকারিতা জানলে অবাক হবেন আপনিও

ডুয়ার্সের চা বাগানে এখনও পর্যন্ত ৫ কেজি ব্লু টি তৈরি করা হয়েছে। সারাবছর ব্লু টি উৎপাদন সম্ভব নয়। কারণ অপরাজিতা ফুল সবসময় ফোটে না। নীল চা আবার স্বাস্থ্যের পক্ষেও ভাল। রক্ত পরিষ্কার থাকে এই চা খেলে। সঙ্গে সতেজ থাকে হৃদপিন্ডও। বিশেষজ্ঞরা এই চা খাওয়ার পরামর্শ দেন।



