১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ ঘোষিত। কিন্তু তার ঠিক আগেই রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ, গণইস্তফা ও পেন ডাউনে উত্তাল বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) শিবির। অতিরিক্ত কাজের চাপ, বারবার বদলানো নির্দেশিকা ও ‘হেনস্থার’ অভিযোগ তুলে শয়ে শয়ে BLO দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছেন। প্রশ্ন উঠছে—এই অস্থিরতায় কি শেষ পর্যায়ের SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া ধাক্কা খাবে?
SIR-এ BLO-দের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ৪ নভেম্বর থেকে এনুমারেশন ফর্ম বিলি, ভোটার যাচাই ও শুনানির (হিয়ারিং) প্রস্তুতি—সব ক্ষেত্রেই তাঁদের উপর নির্ভরশীল প্রক্রিয়া। কাজের চাপ নিয়ে আগে থেকেই অসন্তোষ ছিল। অভিযোগ উঠেছে, অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপে কয়েকজন BLO-র মৃত্যু ও আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভের পর এবার পরিস্থিতি আরও জটিল—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে BLO-রা একযোগে ইস্তফা দিচ্ছেন।

শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা ব্লকে প্রায় ২০০ জন BLO অনির্দিষ্টকালের জন্য পেন ডাউন করেন। বিডিও দফতরের সামনে গেট আটকে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের একের পর এক নতুন নির্দেশিকায় তাঁরা দিশেহারা, মৌখিক নির্দেশে কাজ করতে গিয়ে হেনস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে। তার আগের দিনই উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে ৫৩ জন BLO গণইস্তফা দেন। সূত্রের দাবি, রাজ্যজুড়ে ৫ হাজারের বেশি অব্যাহতির আবেদন জমা পড়েছে।
এই প্রেক্ষিতে Election Commission of India-র বক্তব্য, SIR-এ যুক্ত BLO-র সংখ্যা ৮০ হাজারেরও বেশি। ফলে কিছু জায়গায় বিক্ষোভ বা অব্যাহতির আবেদন হলেও প্রক্রিয়া থামবে না। কমিশনের নির্দেশে জেলার দায়িত্ব সামলাবেন ডিইও-রা (জেলাশাসক)। BLO-রা কেন অব্যাহতি চাইছেন, তার তদন্ত করে দেখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কমিশনের অবস্থান—চিঠি দিলেই অব্যাহতি মিলবে না; উস্কানি বা অন্য কোনও কারণ আছে কি না, তা যাচাই হবে।
তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ব্লকস্তরে যদি একসঙ্গে একশোর বেশি BLO কাজ বন্ধ করেন, তাহলে শুনানি প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকেই। কারণ BLO-রা চিহ্নিত না করলে ভোটার যাচাই ও আপত্তি নিষ্পত্তি আটকে যেতে পারে—যা SIR সম্পন্নের ক্ষেত্রে বড় বাধা।


BLO ঐক্য মঞ্চের দাবি, বিক্ষোভের নেপথ্যে উস্কানি আছে কি না, তা তদন্ত হওয়া জরুরি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মণ্ডল বলেন, “প্রায় ৮৪ হাজার BLO কাজ করছেন। কিছু অভিযোগ বাস্তব—ঠিকঠাক ফর্ম পূরণের পরও আবার শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ কেন, সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার।”
রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র। তৃণমূলের রাজ্য সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “উস্কানি দিচ্ছে কমিশনই। বারবার নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে। একবার শুনানির পর আবার ডাকা হচ্ছে, নতুন নথি চাইছে—এটাই সমস্যা।” অন্যদিকে রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ-এর পাল্টা মন্তব্য, “অন্যান্য রাজ্যে BLO-রা কাজ করছেন। এখানে কেন বিক্ষোভ, তা কমিশনই দেখুক।”

সব মিলিয়ে, শেষ পর্যায়ে BLO-দের অসন্তোষ SIR-কে কতটা প্রভাবিত করবে—সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ১৪ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত সময়সূচি অটুট থাকবে, না কি শেষ মুহূর্তে বদল—চোখ থাকবে কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপে।








