ভোটের আগে প্রার্থী বাছাইয়ে এবার আরও কড়া ও গোপনীয় পথে হাঁটছে বিজেপি। পেশাদার সমীক্ষার রিপোর্টের উপর পুরোপুরি নির্ভর না করে, দলের নীচুতলার কর্মী-নেতাদের মতামতও লিখিতভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে। বন্ধ ঘরের বৈঠক, ফোন জমা রাখা এবং ছাপানো ফর্মে পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখে নেওয়ার মতো অভিনব পদ্ধতিতে চলছে এই প্রক্রিয়া— যা পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির অন্দরমহলে আগে কখনও দেখা যায়নি।
সূত্রের খবর, সাধারণ মানুষের মধ্যে সমীক্ষা চালিয়ে প্রার্থী বাছাইয়ের রীতি এত দিন থাকলেও, এ বার দল আরও সতর্ক। পেশাদার সমীক্ষকদের তৈরি তালিকাকে দলের ভেতরেও ‘ক্রস-চেক’ করা হচ্ছে। সেই কারণেই সংগঠনের নীচের স্তরের মতামত লিখিত আকারে নেওয়া শুরু হয়েছে। রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক কার্যকলাপ দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী জেলায় জেলায় ঘুরে এই অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা চালাচ্ছেন। অন্য রাজ্য থেকে আনা সংগঠন-সম্পর্কিত ১২ জন নেতাও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন।
প্রতিটি সাংগঠনিক জেলায় গিয়ে একেবারে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে মতামত নেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে ডাকা হচ্ছে মণ্ডল সভাপতি, প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের জেলা স্তরের পদাধিকারীদের। বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই সকলের মোবাইল ফোন বন্ধ করিয়ে জমা নেওয়া হচ্ছে। তার পরে ছাপানো ফর্ম বিলি করা হচ্ছে, যাতে লেখা থাকছে— ‘ভারতীয় জনতা পার্টি, পশ্চিমবঙ্গ’ এবং তার নীচে ‘আপনার পছন্দের প্রার্থীর নাম’।
ফর্মে তিনটি আলাদা খোপে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখতে বলা হচ্ছে। শেষে নিজের নাম, পদ এবং স্বাক্ষর দিতে হচ্ছে। ফর্ম যেমন ভাঁজ করে দেওয়া হচ্ছে, ঠিক সেই ভাঁজেই তা ফেরত দিতে বলা হচ্ছে, যাতে অন্য কেউ দেখতে না পারেন। স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে— নিজের নাম কোনও খোপে লেখা যাবে না।
একটি সাংগঠনিক জেলার সব আসনের মতামত সাধারণত একই দিনে নেওয়া হচ্ছে। তবে সবাইকে একসঙ্গে বসানো হচ্ছে না। এক-একটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের আলাদা করে ডেকে বন্ধ ঘরে বৈঠক করা হচ্ছে, যাতে বাইরের কেউ ঢুকতে না পারেন।
ইতিমধ্যেই অধিকাংশ জেলায় এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে একাধিক মণ্ডলস্তরের পদাধিকারীর দাবি, বৈঠকের আগে তাঁদের জানানোই হয়নি যে ছাপানো ফর্মে এভাবে প্রার্থীর নাম লিখে মতামত নেওয়া হবে। ফলে অনেকেই এই প্রক্রিয়াকে ‘চমক’ হিসেবেই দেখছেন।
দলের অন্দরে অনেকে মনে করছেন, ভোটের আগে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এড়াতে এবং স্থানীয় স্তরের বাস্তব ছবি জানতে এই গোপন সমীক্ষা পদ্ধতি অবলম্বন করেছে বিজেপি। এখন দেখার, এই সংগঠনিক মতামতের উপর ভর করেই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় কতটা বদল আসে।



