ভবানীপুরে ভোটের আগেই রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী-র বিরুদ্ধে ‘জোর করে’ পার্টি অফিস তৈরির অভিযোগ তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল তৃণমূল। শাসকদলের দাবি, আইন অমান্য করে বিতর্কিত জমিতে নির্মাণ চলছে—যা নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
ভোটের লড়াই যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু—সেই ভবানীপুর কেন্দ্রেই নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সংঘাত। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী নির্বাচন কমিশনকে পাঠানো চিঠিতে অভিযোগ করেছেন, কলকাতার অরফ্যানগঞ্জ রোডের একটি বিতর্কিত জমিতে বিজেপির তরফে বিশাল বাঁশের কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যা মূলত নির্বাচনী ক্যাম্প অফিস।
তৃণমূলের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে ইতিমধ্যেই আদালতে মামলা বিচারাধীন। সেই অবস্থায় সেখানে কোনও নির্মাণ আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু তাই নয়, কলকাতা পুরসভা আগেই ‘স্টপ ওয়ার্ক’ নোটিস জারি করেছিল। তবুও নির্দেশ অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে দাবি শাসকদলের। এমনকি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় মামলাও দায়ের হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ।
অভিযোগ আরও গুরুতর—স্থানীয় পুলিশ বাধা দিতে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং শুভেন্দু নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে হুমকি দেন বলেও দাবি তৃণমূলের। তাদের বক্তব্য, জোর করে নির্মাণ সামগ্রী ঢোকানো হয়েছে এবং ইচ্ছাকৃত ভাবে এলাকায় অশান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে।
এই প্রেক্ষিতে তৃণমূল নির্বাচন কমিশনের কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। নির্মাণ বন্ধ করা, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং কঠোর ভাবে নির্বাচনী বিধি কার্যকর করার আবেদনও জানানো হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভোটের আগে বড় অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, বিজেপি পরিকল্পিত ভাবে ভবানীপুরে উত্তেজনা ছড়াতে চাইছে। তাঁর কথায়, শান্তিপূর্ণ ভোট প্রক্রিয়া ব্যাহত করতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে বিজেপি অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ কলকাতা বিজেপির নেতা ইন্দ্রজিৎ খটিক পাল্টা বলেন, তৃণমূলই আইনের পাঠ শেখানোর যোগ্য নয়। তাঁর দাবি, শুভেন্দুর প্রার্থী হওয়াতেই তৃণমূল চাপে পড়ে এই অভিযোগ তুলছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এই নির্মাণ ঘিরে পুলিশ ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বচসা হয়েছিল। বাঁশ বোঝাই গাড়ি আটকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয় উত্তেজনা। যদিও সেই সময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বিতর্ক থামেনি। এখন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



