রবীন্দ্রনাথের লেখা দেশের জাতীয় সঙ্গীত বদলের দাবি বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী-র।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে সমস্ত রাজনৈতীক দলগুলি। সরকার কার দখলে থাকবে? বঙ্গে সরকার গঠনের জন্য দলগুলি আলাদা আলাদা কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বিহার নির্বাচনের পর বিজেপির টার্গেট পশ্চিমবাংলা। ঠিক এমন সময়ে রবীন্দ্রনাথে ঠাকুরের লেখা দেশের জাতীয় সঙ্গীত বদলানোর আর্জি জানিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করলেন বিজেপির সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী।

আর পড়ুনঃ নজিরবিহীন; রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ দল। কিসের ইঙ্গিত?

বিজেপি সাংসদ সরাসরি এই আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। চিঠির উত্তর পেয়ে খুশি বিজেপি সাংসদ। এর পরই নিজের ট্যুইটার অ্যাকান্টে একথা নিজেই লেখেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিভিন্ন লেখা নিয়ে সঙ্ঘে একাধিক বার কথা উঠেছে। আপত্তির সুরও শোনা গেছে। এর আগে শিক্ষা সেলের নেতা দীননাথ বাত্রা এনসিইআরটি-র পাঠ্যক্রম থেকে রবীন্দ্রনাথের লেখা বাদ দেওয়ার আর্জি জানিয়ে ছিলেন। অন্যদিকে মোদি সহ সরকারের দলের অন্যান্য নেতাদের গলায় রবীন্দ্রনাথের নানা কবিতা শোনা গেছে।

বর্তমান সময়ে বাংলায় এলেই বিজেপির নেতাদের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে কথা বলে থাকেন। এমন সময়ে বিজেপি সাংসদ তথা নেতা সুব্রহ্মণ্যমের ট্যুইট রাজনৈতীক মহলে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। তাঁর আপত্তি দেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ নিয়ে। কিন্তু এই আপত্তির কারণ কি? তাঁর মতে, দেশের যুব সমাজের বড় অংশের মনের কথাই তিনি বলছেন। জাতীয় সঙ্গীতে সিন্ধু শব্দের ব্যবহার আছে।

আর সেখানে তাঁর আপত্তি। সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর মতে, জাতীয় সঙ্গীতে ‘জন-গন-মন’-র বদলে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি-র গাওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় সঙ্গীত ‘কাওয়ামি তারানা’র প্রথম পংক্তি ‘শুভ সুখ চ্যান’ সঙ্গীতটি গাওয়া উচিৎ। এই গানটি ১৯৪৩ সালে নেতাজীর নির্দেশে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি-র দুই সদস্য মুমতাজ হোসেন এবং কর্নেল আবিদ হাসান সাফরানি লিখেছিলেন এবং সুর দিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন রাম সিংহ ঠাকুর। সুব্রহ্মণ্যম স্বামী তাঁর ট্যুইটে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের একটি বক্তব্যও উল্লেখ করেছেন।

যেখানে বলা হয়েছে, দেশের জাতীয় সঙ্গীতের শব্দ পরিবর্তন বা সংশোধন করা যেতে পারে। কিন্তু এভাবে বিজেপি সাংসদের সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব নয়। কারণ তাঁর গানের মধ্যে থাকা সিন্ধু শব্দ নিওয়ে আপত্তি। আর সিন্ধু শব্দ বাদ দিলে অখণ্ড ভারতের তত্ত্ব-এ চলে আসবে প্রশ্ন। একথা ইতিমধ্যেই মনে করিয়ে দিয়েছেন অনেকেই। সুব্রহ্মণ্যম স্বামী-র আশা নির্বাচনের আগেই আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২১ এ প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করবে মোদি সরকার। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সামনেই একুশের বির্বাচন বঙ্গে। আর বিধানসভা ভোটে নিজের জায়গা শক্ত করতে মরিয়া। এমন পরিস্থিতিতে বিজেপি সাংসদের এই আর্জি গেরুয়া শিবিরে কতটা আঘাত আসতে পারে এখন সেটা প্রশ্ন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর