বিধানসভা ভোটের আগে বড় ঘোষণা—আজ কলকাতার নিউটাউনে বিজেপির নির্বাচনি ‘সঙ্কল্পপত্র’ প্রকাশ করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তৃণমূলের জনমুখী প্রকল্পগুলিকে টক্কর দিতে একাধিক আর্থিক প্রতিশ্রুতি, কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতিবিরোধী কড়া বার্তা—সব মিলিয়ে ভোটের আগে বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপরেখা স্পষ্ট করে দিচ্ছে পদ্ম শিবির।
সূত্রের খবর, বিজেপির এই ইস্তেহারে সরাসরি নজর রাখা হয়েছে তৃণমূল সরকারের প্রকল্পগুলির উপর। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে মাসিক ভাতা ৩০০০ টাকায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেকার যুবকদের জন্য ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।


ইস্তাহারের মূল রাজনৈতিক বার্তায় উঠে এসেছে ‘পতনের পাঁচ দশক’ তত্ত্ব। বামফ্রন্ট ও তৃণমূল—এই দুই শাসনকালকে রাজ্যের শিক্ষা, অর্থনীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোর অবনতির জন্য দায়ী করা হয়েছে। তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিয়েছে বিজেপি। ক্ষমতায় এলে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ, কয়লা-বালি-পাথর চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং সিন্ডিকেট-মাফিয়া রাজ বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে দ্রুত স্বচ্ছ নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি শূন্যপদ পূরণের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
কর্মসংস্থান ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে। বছরে চারটি ‘অগ্নিবীর’ নিয়োগ শিবির আয়োজন এবং পৃথক ‘বেঙ্গল রেজিমেন্ট’ গঠনের উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। শিল্পায়নের মাধ্যমে রাজ্যেই কর্মসংস্থান তৈরির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।


পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, বিভিন্ন নদীর উপর সেতু, এবং সুন্দরবন থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিধাননগর ও কল্যাণীর ধাঁচে নতুন শহর গড়ার কথাও বলা হয়েছে।
গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিক্ষেত্রে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আলু, মাছ, পশুপালন ও রেশম শিল্পে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বাণিজ্যিক বাজার তৈরির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
শিল্পায়নের ক্ষেত্রে সিঙ্গুরে ১০০০ একর জমিতে শিল্প উদ্যান তৈরির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। দুর্গাপুর, আসানসোল ও হাওড়ার মতো শিল্পাঞ্চল পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ কার্যকর করা, নতুন IIT, IIM ও কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা পরিষেবার কথাও বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও সামাজিক ইস্যুতেও জোর দেওয়া হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া ব্যবস্থা, নারীর নিরাপত্তায় ফাস্ট ট্র্যাক আদালত এবং কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষার স্বীকৃতির কথাও রয়েছে ইস্তেহারে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস ধরে রাজ্যজুড়ে মতামত সংগ্রহ করে এই ইস্তেহার তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মতামত, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং জেলা স্তরের প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করেই এই ‘সর্বসমাবেশী’ সঙ্কল্পপত্র তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।








