“মমতাকে টেক্কা দেওয়ার মতো বিরোধী মুখ তুলে ধরতে ব্যার্থ বিজেপি” নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ ব্যাখা সঙ্ঘের মুখপত্রে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ “মমতাকে টেক্কা দেওয়ার মতো বিরোধী মুখ তুলে ধরতে ব্যার্থ বিজেপি”, দাবি আরএসএস-এর। বঙ্গে তৃতীয়বার সরকার গঠন করে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে পরাজিত হয়েছে গেরুয়া শিবির। সব শক্তি কাজে লাগিয়েও দু-সংখ্যা পেরোতে পারেনি বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের এই হারের কারণ কি? নির্বাচনে ফলাফল সামনে আসার পর থেকে এই প্রশ্ন তুলে ধরেছে রাজ্য বিজেপির একাংশ। এবার এই নিয়ে বিশ্লেষণ করা হল আরএসএসের মুখপত্র ‘অর্গানাইজার’-এর সাম্প্রতিক সংখ্যায়। বিশ্লেষণে বিজেপির হারের মূল কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে। যেমন, বাংলায় মমতার বিরোধী মুখ হিসেবে কাউকে সামনে আনতে না পারা। দলবদলু তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের অত্যাধিক গুরুত্ব দেওয়া। এবং বাংলার কোভিড পরিস্থিতি।

আরও পড়ুনঃ রাজ্যের কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের লাইসেন্স বাতিল করল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক!

বৃহস্পতিবার সংঘ মুখপত্র অর্গানাইজারে প্রকাশিত নিবন্ধ ‘ব্যাড এক্সপিরিয়েন্স ইন বেঙ্গল’-এ এই সমস্ত বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ১২১টি বিধানসভা কেন্দ্রে এগিয়ে ছিল। কিন্তু ২০২১ এ এসে যা ৭৭ টি আসনে পৌছেছে। যা যথেষ্ট খারাপ ফল। এই ৭৭টি আসনের ৬৫টি আসন এমন আছে যেগুলিতে ২০১৯ ও ২০২১ দুবারই নিজেদের জায়গায় ধরে রাখতে পেরেছে বিজেপি। এবং ১২ টি আসন এমন আছে যেখানে ২০১৯-এ জায়গায় করতে না পারলেও একুশে জয় হয়েছে।

অন্যদিকে ৫৬ টি আসন যেখানে গত লোকসভায় জয় হওয়ার পরেও একুশের নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির। আর এই ৫৬টি আসন তৃণমূলের জন্য ‘সেফ প্যাসেজ’ হয়েছে বলেই দাবি আরএসএস-এর। এই আসন গুলি বিজেপির হাতছাড়া হওয়ার পিছনে রয়েছে তৃণমূলের একাধিক জনকল্যাণ মূলক প্রকল্প। এছাড়াও বিজেপির পরাজয়ের পিছনে রয়েছে দলের তরফে নেওয়া কিছু ভূল পদক্ষেপ।

সঙ্ঘের মুখপত্রে বলা হয়েছে, বাছবিচার না করে তৃণমূল থেকে আসা নেতা মন্ত্রীদের দলে নেওয়া ও অত্যাধিক গুরুত্ব দেওয়া ছিল বিজেপির সব থেকে বড় ভুল পদক্ষেপ। নিবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টেক্কা দেওয়ার মতো জনপ্রিয় বিরোধী মুখ তুলে ধরতে পারেনি বিজেপি। সেই কারণে দিল্লি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ অন্যান্য মন্ত্রীত্বরা দিনের পর রাজ্যে প্রচারের আসার পরেও বাঙালিদের মনে ছাপ ফেলতে পারেননি। এছাড়াও ভোট মুখি রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতিও অনেকটা প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করছেন RSS-এর শীর্ষ নেতৃত্বরা।

“মমতাকে টেক্কা দেওয়ার মতো বিরোধী মুখ তুলে ধরতে ব্যার্থ বিজেপি”। এছাড়াও বামপন্থীদের ভোট তৃণমূলের দিকে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে তৃণমূলের জয়ের ক্ষেত্রে, এমনটাই দাবি করা হয়েছে ‘ব্যাড এক্সপিরিয়েন্স ইন বেঙ্গল’-এ। আরএসএসের মুখপত্র ‘অর্গানাইজার’-এর সাম্প্রতিক সংখ্যায় বলা হয়েছে, জঙ্গলমহল এলাকার ৫১টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ১৭টি আসন। এর ফলে বোঝাই যাচ্ছে তফসিলি জাতি—উপজাতি সমর্থন আসেনি গেরুয়া শিবিরের পক্ষে। অন্যদিকে মতুয়া সম্প্রদায়েরও সম্পুর্ন সমর্থন পায়নি বিজেপি। রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি রাজকমল পাঠকের মতে, ভোট পরিচালনা কাজে লাগানো হয়নি দলের পুরনো নেতাদের। যা পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন রাজকমল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত