২০১১ সালের ব্রিগেড সমাবেশের সময় অনেকেই ভেবেছিলেন, সিপিএম আবারও ক্ষমতায় ফিরবে। মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য—দল ও রাজ্যের সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষ। কিন্তু মানুষই গণতন্ত্রের আসল শক্তি। বামফ্রন্টকে হারিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস।
ঠিক সেই যুক্তিতেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এ বার বললেন, “আজ নয়, কাল—তৃণমূল সরকারের পতন অনিবার্য।” কিন্তু প্রশ্ন হল, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হবেন কে? শুভেন্দু অধিকারী কি সেই দায়িত্বে?
বিজেপির মুখ্য মুখ কি তবে শুধুই মোদি?
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে শমীক ভট্টাচার্য জানিয়ে দিলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে আপাতত কাউকে ঘোষণা করা হচ্ছে না। এমনকি তিনি সচেতনভাবে এড়িয়ে গেলেন শুভেন্দু অধিকারীর নাম উচ্চারণ। উল্লেখযোগ্যভাবে শমীক উদাহরণ দিলেন অসম রাজ্যের, যেখানে অমিত শাহ আগেভাগেই হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। তাহলে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেই রণকৌশল কেন নয়?
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নরেন্দ্র মোদি হলেন দেশের এক নম্বর নেতা, তিনিই বিজেপির মূল মুখ। তাঁর জনপ্রিয়তাই আমাদের প্রধান শক্তি।”
শমীকের মুখে প্রশংসা অমিত শাহর, শুভেন্দুর প্রসঙ্গে নীরবতা
বিজেপির এই রাজ্য সভাপতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দেশের এক নম্বর ইলেকশন স্ট্র্যাটেজি মেকার হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “শাহজি জানেন কীভাবে রাজনীতিতে জনমানস বোঝা যায় এবং নির্বাচন জেতা যায়।” তবে শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী মুখ ঘোষণা করা নিয়ে যখন প্রশ্ন করা হয়, তিনি প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে ফের মোদির জনপ্রিয়তার দিকেই আলো টানেন। এখানেই রাজনৈতিক মহলের জল্পনা শুরু—শুভেন্দু কি তবে গৌণ হয়ে পড়ছেন?

রাজ্য বিজেপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন কি স্পষ্ট?
বিজেপির একাংশ মনে করছে, রাজ্যে তৃণমূল বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা উচিত। কিন্তু শমীকের বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনই এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিতে নারাজ। একদিকে শুভেন্দু অধিকারীর জনপ্রিয়তা, অন্যদিকে রাজ্য বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব—এই দুয়ের মাঝে বিজেপির ভোট কৌশল হয়ে উঠছে জটিল।
তৃণমূলের পতন শুধু সময়ের অপেক্ষা, দাবি শমীকের
তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে শমীক বলেন, “এই সরকারের পতন অবশ্যম্ভাবী। জনতা আর বিশ্বাস করছে না, মানুষ বদল চাইছে।” তিনি আরও বলেন, “আজ যদি না-ও হয়, কাল মানুষ তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেবে। আর সেই বদল আনবে বিজেপি।” তবে সেই বদল আনার পথ কেমন হবে—তা এখনই স্পষ্ট করতে নারাজ রাজ্য নেতৃত্ব।
শুভেন্দু অধিকারীর নাম না বলেই শমীক ভট্টাচার্য যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়ে অনিশ্চয়তা রেখে দিলেন, তা নিঃসন্দেহে বড় বার্তা। বিজেপি আপাতত রাজ্যে ‘মোদি ম্যাজিক’-এর উপরই ভরসা রাখতে চাইছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এই কৌশল কি আদৌ সফল হবে? নাকি মুখের অভাবে জনমানসে প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হবে বিজেপি?



