কলকাতা, ১২ নভেম্বর: প্রাক্তন বিচারপতি থেকে বিজেপি সাংসদ হওয়া অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়-এর সাম্প্রতিক মন্তব্যে অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে BJP Bengal leadership-এর মধ্যে। বাংলার রাজনীতিতে দলের অবস্থান নিয়ে তাঁর খোলামেলা সমালোচনার জেরে সরাসরি দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব হস্তক্ষেপ করেছে।
দলের সূত্রে খবর, এই মন্তব্যের পরই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে জরুরি ভিত্তিতে দিল্লিতে তলব করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিজেপির সংগঠন সম্পাদক বিএল সন্তোষ-এর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ বৈঠক হয়। উপস্থিত ছিলেন বাংলার পর্যবেক্ষক সুনীল বনশলও।
‘বাংলায় দিল্লিওয়ালা নেতাদের প্রচার মানায় না’ — বিতর্কের সূত্রপাত এখানেই
গত সপ্তাহে এক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “হিন্দি বলয় থেকে নেতাদের এনে বাংলায় ভোট করানো যাবে না। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মন, মেজাজ ও অভিমান দিল্লির নেতারা বোঝেন না।”
তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, বাংলায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রচার কৌশল নিয়ে তিনি একমত নন। বিজেপির একাংশ মনে করছে, অভিজিৎ কার্যত দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগেছেন, যা ২০২৬ সালের ভোটের আগে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
একজন সিনিয়র বিজেপি নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “এমন মন্তব্য ভোটের মুখে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো সংসদ সদস্যের থেকে এমন মন্তব্য অপ্রত্যাশিত।”

দিল্লির তলব — কী জানালেন শমীক ভট্টাচার্য
দিল্লিতে বৈঠকের পর শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, তিনি একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে। সূত্রের খবর, বিএল সন্তোষ জানতে চেয়েছেন — অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্যের পর রাজ্য নেতৃত্ব কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের মন্তব্য আটকাতে কী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
দিল্লির নির্দেশ, অভিজিৎকে স্পষ্ট জানাতে হবে যে দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত বা কৌশল নিয়ে মিডিয়ার সামনে কোনও মন্তব্য করা যাবে না। পাশাপাশি তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের মন্তব্য করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বিজেপির অভ্যন্তরে ভাঙন নাকি ব্যক্তিগত মত?
প্রশ্ন উঠছে— অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় কি শুধুই ব্যক্তিগত মত দিয়েছেন, নাকি তাঁর এই বক্তব্যে রাজ্য নেতৃত্বের কোনও অংশের সমর্থন রয়েছে?
দলের একাংশের দাবি, “অভিজিৎ যা বলেছেন, তা অনেকে ভিতরে ভিতরে মানেন। তবে প্রকাশ্যে বলা ঠিক হয়নি।” অপর অংশের মতে, তাঁর মন্তব্যে দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে, যা তৃণমূলকে রাজনৈতিক সুবিধা দিচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় আদালত থেকে রাজনীতিতে আসার পর থেকেই দলের অভ্যন্তরে একদল তাঁকে নিয়ে সন্দিহান ছিল। তাঁর সরাসরি বক্তব্যের ধরন এবং কেন্দ্রের সমালোচনা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী বলেই মনে করা হচ্ছে।
২০২৬-এর আগে বিজেপির ভাবমূর্তি নিয়েই চিন্তা
তৃণমূল শিবির ইতিমধ্যেই এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছে। রাজ্যের শাসকদলের এক নেতা বলেন, “বিজেপির মধ্যেই বিভাজন শুরু হয়েছে, এই মন্তব্যই তার প্রমাণ।”
ফলে প্রশ্ন উঠছে— ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই অভ্যন্তরীণ বিতর্কে বিজেপির জনসমর্থন ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি? দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আপাতত পরিস্থিতি সামলাতে মরিয়া, যাতে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্যের ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ করা যায়।



