নজরবন্দি ব্যুরোঃ বঙ্গের নির্বাচনী যুদ্ধে পাকিস্তান প্রসঙ্গ টেনে এনে বিপাকে বিজেপি প্রার্থী। দেশের হোক বা বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচন পাকিস্তান প্রসঙ্গ টেনে সুরসুরি দিয়ে ভোট আদায়ের কৌশল বিজেপির ছোট থেকে বড় সব নেতারাই নিয়ে থাকেন। যে কোন প্রসঙ্গেই পাকিস্তানকে টেনে রণে ভঙ্গ দেওয়া বিজেপি নেতাদের স্বভাবসিদ্ধ। তা নিয়ে মাঝে মাঝেই ফাঁপরে পড়তে হয় তাদের। তবে তাতেও যে তারা শিক্ষা নেননি সদ্য ঘটে যাওয়া ঘটনা তার প্রমান।
আরও পড়ুনঃ ভোটের দিনে কসবায় টাকা বিলির অভিযোগ বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে।


প্রচারে বেরিয়ে এবার ফের বিজেপির এক প্রার্থীর মুখে শোনা গেল পাকিস্তান প্রসঙ্গ। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বিস্তর জলঘোলা। শুক্রবার উত্তরবঙ্গের দক্ষিন দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচার করতে গিয়ে এই পাকিস্তান প্রসঙ্গ টেনে আনেন বিজেপি প্রার্থী সত্যেন্দ্রনাথ রায়। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গকে চারটে পাকিস্তান বানাবে।’ তাঁর এহেন মন্তব্য নিয়েই এখন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রার্থীর এমন বেলাগাম মন্তব্যে কার্যতই অস্বস্তিতে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। দঅন্যদিকে ঘটনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তৃণমূলের তরফ থেকে বলা হয়েছে ভোট প্রচারের নামে সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও ধর্মের বিভাজনের রাজনীতি করছেন বিজেপি প্রার্থী। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জেলার নির্বাচন দফতরে এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই অনলাইনে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
গঙ্গারামপুরে তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দাস এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে বলেন, ‘বিভাজনের রাজনীতি করছে বিজেপি। জেলাজুড়ে এতদিন যে সংস্কৃতি ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ বজায় ছিল, তা ধ্বংস করছে বিজেপির ধর্মীয় মেরুকরণ রাজনীতি।’ যদিও গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে সত্যেন্দ্রনাথের মন্তব্যকে ভুল হিসাবে ধরা হচ্ছে না। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকার এই বিষয়ে সাফ জানিয়েছেন, ‘তৃণমূল নেতারা প্রকাশ্যে বলেছেন তাঁরা ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গকে চারটি পাকিস্তান বানানোর ক্ষমতা রাখে। সে কথাই তো মানুষের সামনে নিয়ে যাচ্ছেন বিজেপি প্রার্থী। এখানে ধর্মীয় মেরুকরণের কোনও প্রশ্ন নেই।’
বঙ্গের নির্বাচনী যুদ্ধে পাকিস্তান প্রসঙ্গ টেনে এনে বিপাকে বিজেপি প্রার্থী। কিন্তু রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে তার মোদ্দা কথাই হল, বাংলার নির্বাচনে কেন পাকিস্তানকে ইস্যু করা হচ্ছে? এটা কীভাবে বাংলার ভোটপ্রচারের ইস্যু হতে পারে? যদিও এই বিতর্ক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। এই ব্যাপারে কমিশন কি ব্যবস্থা নেয় সেই দিকেই তাকিয়ে সবাই।









