অর্ক সানা, সম্পাদক(নজরবন্দি): ২০২৪ লোকসভা উপলক্ষে গত ৩০ এপ্রিল নির্বাচনী প্রচারে বাংলায় এসে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে চরম আক্রমণ শানিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। নবরাত্রি হোক কিংবা রামনবমী, কোনও অনুষ্ঠানেই তাঁর রাজ্যে কোনও হিংসার ঘটনা ঘটে না। তাহলে বাংলায় কেন ঘটে? প্রশ্ন তোলেন যোগী। পাশাপশি জানান, এই ঘটনা যদি তাঁর রাজ্যে হতো তাহলে উলটো করে টাঙিয়ে দিতেন তিনি। বহরমপুরের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ নির্মল সাহার সমর্থনে সভা করে এই মন্তব্য করেছিলেন যোগী আদিত্যনাথ।
যোগী আদিত্যনাথের স্টাইল কপি করে এই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা অনেকবারই বুলডোজার সরকার চালানোর কথা বলেছেন। আর এইবারের লোকসভা নির্বাচনে শুভেন্দুর মূল বক্রব্য ছিল একটাই। বিজেপি ৩০-৩৫ টি আসন পেলেই ফেলে দেওয়া হবে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে আর ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। রাজ্যে বিজেপি ৩৬টি আসন পেলে ৬ মাসের মধ্যে তৃণমূল সরকারকে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেবেন শুভেন্দু। গত ৩০ মার্চ লোকসভার নির্বাচনী প্রচারে যাদবপুর কেন্দ্রের রানিকুঠিতে নির্বাচনী সভায় এমনই দাবি করেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।


আরও পড়ুনঃ ফাইল খুলছে নারদার, শুভেন্দু কে দিয়ে শুরু, হাল ফেরাতে দিলীপ ঘোষই ভরসা বিজেপির।
বিভিন্ন জনসভায় শুভেন্দু অধিকারী একাধিকবার জানিয়েছেন, বিজেপি এই রাজ্যে লোকসভায় সংখ্যাগুরু আসন পেলেই তৃণমূলের মেয়াদ শেষ। ২০২৬ নয় তার অনেক আগেই সরকার ফেলে দিয়ে হবে অকাল বিধানসভা নির্বাচন। অর্থাৎ লোকসভা আসনের সংখ্যা গরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রাজ্যে সরকার বদলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। যদিও বাস্তব অন্য কথা বলছে। অমিত শাহ ৩৫, শুভেন্দুর ৩৬ এই সব সংখ্যায় পৌঁছানোর অনেক আগে, মাত্র ১২তে থমকে গেছে বিজেপি। যার মধ্যে ২ টি আসন প্রায় হারতে হারতে জয়ী হয়েছে গেরুয়া শিবির।
ইস্তফা দিচ্ছেন যোগী আদিত্যনাথ? উত্তরপ্রদেশে সংখ্যালঘু বিজেপি সরকার, ক্ষমতায় সমাজবাদী পার্টি!

১৭ই মে ২০২৪, উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকিতে বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে জনসভা করেন মোদী। সভা থেকে উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এবং কংগ্রেস জোটকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, “কোথায় বুলডোজ়ার চালাতে হয় আর কোথায় নয়, তা নিয়ে তাদের (বিরোধীদের) যোগীজির কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।” এসপি এবং কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে এই দুই দল অযোধ্যার রামমন্দিরে বুলডোজার চালাবে বলেও তোপ দাগেন মোদী। তিনি বলেন, “এসপি-কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে রামলালা (রামমন্দিরে শিশু রামের বিগ্রহ)-কে ফের তাঁবুতে ফিরে যেতে হবে আর ওরা রামমন্দিরে বুলডোজার চালাবে।”



বিজেপির আশা এবং সমস্ত ‘হেভিওয়েট’ সংবাদমাধ্যমের প্রত্যাশা ছিল উত্তর প্রদেশে বিজেপি কমপক্ষে ৭০-৭২ টি আসন পাবে লোকসভায়। কিন্তু বাস্তবে ফল হয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীত। যোগীরাজ্যে ৮০ টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে মাত্র ৩৩ টি আসন। সেখানে সমাজবাদী পার্টি ৩৭ আর কংগ্রেস পেয়েছে ৬ টি আসন। বাকি দলগুলো মিলে পেয়েছে ৪ টি আসন। অর্থাৎ উত্তর প্রদেশে সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে বিজেপি। এবার প্রশ্ন হল, বাংলাইয় যেভাবে সরকার ফেলে দেওয়ার কথা হচ্ছিল সেই একই ভাবে কি উত্তর প্রদেশের সরকার ফেলে দিয়ে, অকাল নির্বাচনের পথে হাঁটবে বিজেপি? ‘এক দেশ এক আইন’, বা ‘এক দেশ এক নির্বাচনের’ মত ‘এক কথা, একই নিয়ম’, এই পথে হাঁটবে ভারতীয় জনতা পার্টি? নাকি শুধুই মুখে মারিতং জগৎ!







