নজরবন্দি ব্যুরো: ফ্রান্স তথা বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি ফুটবলার মিশেল প্লাতিনি। গত শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড়দের মাঝে প্রথম সারিতেই থাকবেন তিনি। প্লাতিনি আসার আগে ফ্রান্স ফুটবলে তেমন কোনো তারকা ফুটবলার ছিলেন না। এক জাঁ ফঁতে ছিলেন, যিনি এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৩ গোলের রেকর্ড করেছিলেন।
আরও পড়ুন: গোড়ায় গন্ডগোল! প্রথম টেস্টেই ফিকে পড়ল বাজবল, এজবাস্টনে ব্রিটিশ ‘বধ’ অজিদের
তবে তিনি ক্লাব ফুটবল অথবা জাতীয় দলের হয়ে তেমন কিছু জিততে পারেননি। ফ্রান্সকে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক (ইউরো ১৯৮৪) শিরোপা জেতানোর মূল নায়ক ছিলেন প্লাতিনি। প্লাতিনিই প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিনবার ব্যালন ডি অর জেতার রেকর্ড করেন। বড় ম্যাচে জ্বলে ওঠার জন্য বিখ্যাত প্লাতিনি বিশ্বকাপেও ঢের ভালো খেলেছেন। তিনি দলে আসার আগের দুই বিশ্বকাপে ফ্রান্স বাছাইপর্বের গণ্ডিই পার করতে পারেনি।

১৯৭৮ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে বুলগেরিয়াকে ৩-১ গোলে হারানো ম্যাচে প্লেমেকার হিসেবে খেলা প্লাতিনি ৩০ গজ দূর থেকে গোল করে সবার নজরে পড়েন। তবে মূল বিশ্বকাপে তেমন কিছু করতে পারেননি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাত্র একটি গোল করতে সক্ষম হন, দলও বাদ পড়ে যায় গ্রুপ পর্ব থেকে। পরের বিশ্বকাপের (১৯৮২) বাছাই পর্বে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফ্রি কিক থেকে গোল করে প্লাতিনি দলকে মূল পর্বে উঠতে সাহায্য করেন।

এই বিশ্বকাপে প্লাতিনি অধিনায়কের দায়িত্ব পান। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্ব পার করে সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানির মুখোমুখি হয় ফ্রান্স। ওই ম্যাচটিকে ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে গণ্য করা হয়। নির্ধারিত সময়ের খেলা ৩-৩ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে পশ্চিম জার্মানি ম্যাচটা জিতে যায়। ফ্রান্সের পক্ষে প্রথম গোলটি করেন প্লাতিনি।
ম্যাচটিকে প্লাতিনি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় স্মৃতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কোনো বিশ্বকাপেই প্লাতিনি গোল্ডেন বল, সিলভার বল কিংবা ব্রোঞ্জ বল পাননি। তবে এরপরও ২০১৪ সালে গার্ডিয়ান পত্রিকার মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়ের তালিকায় দশম স্থানে আছেন তিনি। অথচ অনেক বিশ্বকাপজয়ী এবং গোল্ডেন বল জয়ী খেলোয়াড়ও তালিকায় তার পেছনে রয়েছেন।
ফরাসি ফুটবলশিল্পী মিশেল প্লাতিনির আজ জন্মদিন

এ থেকে বোঝা যায়, বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স কতটা চমকপ্রদ ছিল। ফ্রান্সের হয়ে খেলা ৭২টি ম্যাচের মধ্যে ৪৯টিতেই অধিনায়ক হিসেবে ছিলেন প্লাতিনি, দলের হয়ে ৪১টি গোল করেন তিনি, যা একসময় ফ্রান্সের পক্ষে সর্বোচ্চ ছিল। পরবর্তী সময়ে থিয়েরি হেনরি রেকর্ডটি ভেঙে ফেলেন। তবে হেনরির গোল গড় প্লাতিনির (০.৫৭) চেয়ে অনেক কম (০.৪১)।



