নজরবন্দি ব্যুরোঃ আর নয় ব্যাটিং, বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার ইচ্ছেপ্রকাশ বিমান বসুর। জীবনের দীর্ঘতম ইনিংস থেকে এবার অব্যাহতি চাইলেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান তথা পার্টি হোলটাইমার বিমান বসু। তাঁর এই পদ থেকে অবসরের মানে কিছু যুগের অবসান। যৌবনের দায়িত্ব প্রবীণেও সামলানো পোড়খাওয়া নেতা রাজ্যে দলের চরম ভরাডুবির পর ছাড়া চাইলেন।
আরও পড়ুনঃ আসন্ন কঠিন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত অক্সিজেন চেয়ে মোদীকে ‘অতি জরুরি’ চিঠি মমতার।
বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির শীর্ষ নেতাদের কাছে নিজের মনোভাবের কথা জানিয়েও দিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত এবারের নির্বাচনে জোট বেঁধেও রাজ্যে একটিও আসন নিতে পারেনি সিপিএম ও কংগ্রেস। এই প্রথম রাজ্যে এমনভাবে ধুলিস্যাত হয়েছে দুই দল। এছাড়া বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের পাশপাশি আব্বাস সিদ্দিকীর ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন সিপিআইএমের বর্ষীয়ান নেতা বিমান বসু।
পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ ভেবেছিলেন, অন্তত ধর্মনিরপেক্ষ ও সংখ্যালঘু মনোভাবাপন্ন ভোটারদের সমর্থনে বাজিমাত করা যাবে। তবে বাস্তবে দেখা গেছিল উলটো ছবি। ধর্মনিরপেক্ষ দল কিভাবে আব্বাসের মত একজন মৌলবির দলের সঙ্গে হাত মেলায় এই নিয়ে দলের অন্দরেই তুমুল ক্ষোভ ছিল। যার জেরে নিজেদের ভোটটাও হারিয়ে বসে তারা। এই নিয়ে ভোটের ফলের পর সিপিআইএমের তিন নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য, কান্তি গঙ্গ্যোপাধ্যায় ও অশোক ভট্টাচার্যের মতো নেতারা আইএসএফের সঙ্গে জোট গড়া নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বকে তুলোধনা করেন। দলের অন্দরেও এই ক্ষোভ ভোটের সময় থেকেই ছিল।
আর নয় ব্যাটিং, বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার ইচ্ছেপ্রকাশ বিমান বসুর। যার জেরে এমন তাসের ঘরের মত ভেঙে পরেছে সিপিএম। এমন অবস্থায় নিজের পদ ছেড়ে দিচ্ছেন বিমান বসু। আগামীদিনে নতুনদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েই রাজ্য রাজনীতিতে ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে চাইছে সিপিএম। তবে তাঁর মত একজন পোড়খাওয়া নেতার অবসর গ্রহন নিঃসন্দেহে এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।






