রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পাহাড়ের সমীকরণে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার শীর্ষ নেতা বিমল গুরুং ও রোশন গিরি। পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিনিধি ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত, কালিম্পং, কার্শিয়াং এবং মিরিক পুরসভায় আপাতত প্রশাসক নিয়োগ।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তাও। পাহাড়ের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসেনি। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা বাবদ ৩ লক্ষ কোটি টাকার দীর্ঘমেয়াদি বরাদ্দের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। একইসঙ্গে গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA)-এর প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আনতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, পাহাড়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একসময় পাহাড়ের রাজনীতিতে প্রভাবশালী মুখ বিমল গুরুং ও রোশন গিরিকে দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকতে হয়েছিল। এবার নতুন সরকারের সঙ্গে তাঁদের প্রকাশ্য বৈঠক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বর্তমানে GTA-র দায়িত্বে রয়েছে ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (BGPM)। তবে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পাহাড়ে তাদের অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই আবহে গুরুং-গিরিদের সক্রিয় উপস্থিতি এবং নবান্নের বৈঠক রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তিন পুরসভায় প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্তকে অনেকেই আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবেও দেখছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, আগামী দিনে পাহাড়ে পুরসভা নির্বাচন এবং GTA নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
পাহাড়বাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, উন্নয়নমূলক প্রকল্পের গতি সন্তোষজনক নয় এবং নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রেও একাধিক সমস্যা রয়েছে। নতুন প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে চায় রাজ্য সরকার।
রাজনৈতিক বার্তা এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ— দুই দিক থেকেই শুক্রবারের নবান্ন বৈঠক পাহাড় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলে মনে করা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে, ঘোষিত প্রকল্প ও সিদ্ধান্তগুলি বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয় এবং পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণে তার কী প্রভাব পড়ে।



