মাওবাদী দমনে আরও এক বড় সাফল্য পেল ছত্তিশগড় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিজাপুর জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘন জঙ্গলে গুলির লড়াইয়ে খতম হল চার শীর্ষ মাওবাদী নেতা। শনিবার সকালে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী অভিযান চালায় বিজাপুরের কারেগুট্টা পাহাড় সংলগ্ন এলাকায়। বেশ কিছুদিন ধরেই ওই অঞ্চলে মাওবাদী উপস্থিতির খবর ছিল গোয়েন্দাদের কাছে। সেই অনুযায়ী, পরিকল্পনা করে বাহিনী জঙ্গলে ঢোকে এবং শুরু হয় তল্লাশি।
অভিযানের সময় নিজেদের পিছু হঠানোর সুযোগ না পেয়ে কোণঠাসা মাওবাদীরা গুলি চালাতে শুরু করে নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে। জবাবে পালটা গুলি ছোড়ে যৌথ বাহিনী। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা সংঘর্ষের শেষে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৪ মাওবাদীর। বিজাপুরের পুলিশ সুপার জিতেন্দ্র যাদব জানান, ‘‘ঘটনাস্থল থেকে চারটি দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও অভিযান চলছে। আরও মাওবাদী থাকতে পারে।’’


এছাড়াও, উদ্ধার হয়েছে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাওবাদী প্রচারপত্র। পুলিশের ধারণা, মৃতরা সবাই মাওবাদীদের বড় মাপের নেতা এবং একাধিক হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে ভারতকে সম্পূর্ণ মাওবাদীমুক্ত করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই চলেছে লাগাতার মাও-দমন অভিযান।
এই বছরের ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া কারেগুট্টা পাহাড় অঞ্চল-ভিত্তিক অভিযানেই এখন পর্যন্ত খতম করা হয়েছে ৩১ জনের বেশি মাওবাদী। শুধু বিজাপুর নয়, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র ও তেলেঙ্গানা সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় মাও দমনকে কেন্দ্র করে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২০,০০০ যৌথবাহিনী।
এর আগে খতম করা হয়েছে মাওবাদী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বাসবরাজুকে, যার মাথার দাম ছিল ১.৫ কোটি টাকা। এছাড়াও, বৃহস্পতিবার মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুধাকরও গুলির লড়াইয়ে মারা যান।গোয়েন্দা বিভাগ জানাচ্ছে, বর্তমানে ছত্তিশগড়-তেলেঙ্গানা সীমান্তবর্তী এলাকাগুলি মাওবাদীদের শেষ শক্ত ঘাঁটি। তাদের চূড়ান্তভাবে নির্মূল করতেই ব্যাপক আকারে সেনা মোতায়েন ও প্রযুক্তিগত নজরদারি চালানো হচ্ছে।


নিরাপত্তা বাহিনীর এই সাফল্য শুধু সামরিক নয়, মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও বড় বার্তা দিচ্ছে মাওবাদীদের প্রতি। জনসমর্থন হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে তারা। এই ধরনের অভিযান আগামী দিনে আরও জোরালো করা হবে বলে জানানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে। সরকারের লক্ষ্য, শুধু অভিযান নয়— এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিয়ে মাওবাদী প্রভাবকে চিরতরে নির্মূল করা।








