রাজনীতি নয়, TGT-র দাবিতে এককাট্টা লক্ষাধিক গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ শিয়রে ভোট। নানাবিধ দাবি নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন যখন মুখ্যমন্ত্রীর সভাতেই প্ল্যাকার্ড হাতে হাজির হয়ে যাচ্ছে, এবং পুরোটা না হলেও বেশ খানিকটা দাবী আদায়ে সক্ষমও হচ্ছেন ,সেখানে বেতন বঞ্চনার সম্পুর্ন ন্যায্য দাবী নিজেদের স্বপক্ষে থাকা সত্বেও, এ রাজ্যের প্রায় দেড় লক্ষাধিক গ্র‍্যাজুয়েট শিক্ষক এখনও সরকারের তরফ থেকে কোনো রকম সদর্থক বার্তা না পেয়ে চরম হতাশাগ্রস্ত অবস্থায়, শেষ অস্ত্র হিসেবে প্রতিশোধকেই হাতিয়ারের সিদ্ধান্ত নিতে একপ্রকার বাধ্য হচ্ছে। তাই রাজনীতি নয়, TGT-র দাবিতে এককাট্টা লাখো গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক।

আরও পড়ুনঃ নাগালের বাইরে জ্বালানির দাম, প্রতিবাদে ইলেকট্রিক স্কুটি চেপে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী

গ্র‍্যাজুয়েট শিক্ষকদের ন্যায্য টিজিটি স্কেলের দাবী নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাস্তায় এবং কোর্টে লাগাতার লড়াইয়ে থাকা সংগঠন বিজিটিএ র রাজ্য সম্পাদক সউরেন ভট্টাচার্য এ প্রসঙ্গে বলেন,”হাইকোর্টের স্পষ্ট রায় থাকা সত্বেও সরকার যদি শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন দিতে অনীহা প্রকাশ করে,আদতে তা অস্বীকার করাই বোঝায়।গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত একটা সরকার যদি গনতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভকেই না মানে,তাহলে আমাদের দেড় লক্ষাধিক শিক্ষক শিক্ষিকা ও তাঁদের পরিবারের হাতেও যে আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষমতা আছে, সেটা যেন সরকার না ভুলে যায়।”

বিজিটিএ রাজ্য কমিটির সদস্য রত্নদ্বীপ সামন্ত পূর্ব মেদিনীপুর জেলা থেকে ফোনে জানান,” বিজেপি, সিপিএম বা কংগ্রেস এর দিকে নয়,এরাজ্যের গ্র‍্যাজুয়েট শিক্ষক শিক্ষিকাগন ঝুঁকে রয়েছেন টিজিটি র দিকেই।তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান রাজ্য সরকারই এ রাজ্যের সমস্ত গ্র‍্যাজুয়েট শিক্ষক শিক্ষিকাদের সঙে প্রতারণা এমনই চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, রাজ্যের বর্তমান সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বিরোধী শক্তির কাছে তাঁদেরকে আশ্রয় নিতে এই সরকারই বাধ্য করাচ্ছে।” সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ধ্রবপদ ঘোষাল বলেন,”সরকার বোধহয় বুঝতেই পারছেনা যে, প্রতিটি বুথে ভোট করাতে গ্র‍্যাজুয়েট শিক্ষকরাই যাবেন।

পাড়ায়,গ্রামে সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে এই শিক্ষকেরাই প্রবল জনমত গঠনে সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করবেন।আর সরকারের এই উন্নাসিকতার সুযোগ বিরোধী রাজনৈতিক দল গ্রহন করে যে ভোটে থাবা বসাবেই, সেটা সরকার বুঝেও না বোঝার ভান করলে,ভোটের ফল বেরলে সত্যিই খেলা হবে।”দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদিকা দীপান্বিতা সামন্ত জানান,”আমরা এখনও আশাবাদী যে সরকার, বিশেষত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের বিষয়ে ভোটের আগেই সদর্থক কিছু পদক্ষেপ নেবেনই।তা নাহলে তো, এবারে আমরাও ভোটকর্মী হিসেবে বুথে যাচ্ছি।হিসেব ওখানেই চুকিয়ে দেবো।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত