ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলের তীব্র আপত্তির পর নন্দীগ্রামের বিডিও সুরজিৎ রায়কে রিটার্নিং অফিসারের পদ থেকে সরানো হল। তাঁর বিরুদ্ধে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ওঠায় এই পদক্ষেপ—যা ভোটের আগে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে বিকল্প হিসেবে তিন জন আধিকারিকের নাম চাওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত নতুন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা যায়।


ভবানীপুর কেন্দ্রটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মুখোমুখি লড়াইয়ের সম্ভাবনার কারণে এই কেন্দ্রের দিকে নজর রয়েছে গোটা রাজ্যের। এমন পরিস্থিতিতে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।
মঙ্গলবার সুরজিৎ রায়ের নিয়োগের বিরুদ্ধে সরব হয় তৃণমূল। অভিযোগ ওঠে, তিনি আগে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও হিসেবে কাজ করার সময় রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। তৃণমূলের তরফে সরাসরি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে চিঠি পাঠিয়ে এই নিয়োগের বিরোধিতা করা হয়। সেই চিঠির প্রতিলিপি দেওয়া হয় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের কাছেও।
এই ইস্যুতে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, কমিশনের সিদ্ধান্তে পক্ষপাতের ইঙ্গিত মিলছে। একইসঙ্গে বিজেপির প্রতীক সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও তিনি কমিশনকে কটাক্ষ করেন।


তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েনও এই নিয়োগের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর দাবি, এমন সিদ্ধান্ত ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় কমিশন এবং বিকল্প নাম চেয়ে নবান্নে চিঠি পাঠায়।







