চিনা সংস্থা স্পনসর তাই ‘সেরা অভিনেতা’র পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করলেন জিৎ।

চিনা সংস্থা স্পনসর তাই ‘সেরা অভিনেতা’র পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করলেন জিৎ।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ চিনের বিরুদ্ধে এবার কার্যত সাইবার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ভারত। ভারতে নিষিদ্ধ হয়েছে টিকটক সহ চিনের ৫৯টি অ্যাপ ব্যবহার। অভিনেতা তথা তৃণমূল সাংসদ নুসরৎ এবং অভিনেতা সোহমের এর উলটো লাইনে হেঁটে এবার টলিউডের অভিনেতা জিৎ চিনা স্পনসরের কারনে প্রত্যাখ্যান করলেন সেরা অভিনেতা’র পুরস্কার!

কদিন আগে একটি সংস্থা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে সেরা অভিনেতা সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠান করে, সেখানে জিৎ সেরার সেরা শিরোপা জেতেন। কিন্তু পরে জিৎ দেখেন স্পন্সর রয়েছে একটি চিনা সংস্থা, তিনি সাথে সাথেই পুরস্কার নিতে অস্বীকার করেন। জিৎ জানিয়েছেন, যে সমস্ত দর্শকরা আমাকে ভোট দিয়েছেন, যাঁরা আমাকে ভালবাসেন, তাঁদের অসংখ্য ধন্যবাদ। পুরস্কার পেতে কার না ভাল লাগে বলুন! পরিবারের সদস্যরা, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব সবাই খুশিও হয়। বিশেষ করে বাড়ির বাচ্চারা ট্রফি দেখলেই আনন্দ পায়। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার দেওয়া পুরস্কার গ্রহণ করতে কিছুতেই আমার মন সায় দিচ্ছে না!” তিনি আরও জানিয়েছেন, “অনেকেই হয়তো জানেন না যে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সঙ্গে একটি চিনা কোম্পানি যুক্ত রয়েছে। আমার ব্যক্তিগতভাবে কারও সঙ্গে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের দেশের সঙ্গে চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভাল নয়। চিনের আগ্রাসী মনোভাবাপন্নের জন্যই শহিদ হতে হয়েছে আমাদের দেশের জওয়ানদের। আর এমতাবস্থায় কোনও মতেই আমি এই পুরস্কার নিতে পারব না। সীমান্তে গিয়ে লড়াই না করতে পারলেও নিজের দেশের জন্য তো এটুকু করাই যায়। তাই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করলাম।” 

উল্লেখ্য, লাদাখ বর্ডারে চিনের হামলায় ভারতবাসী ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়ে চিনা দ্রব্য বর্যনের দাবি তুলছিল। কিন্তু চিন নিয়ে কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেই দিয়েছিলেন চিন ভারতের সীমানা টপকে ভেতরে ঢোকেনি! অন্যদিকে দেশে চিনা দ্রব্য বর্যনের হিড়িকের মাঝেই চিনা অ্যাপ টিকটকে অ্যাকাউন্ট খোলে খোদ ভারত সরকার।  হুহু করে ফলোয়ার্স বাড়ছিল ভারত সরকারের টিকটক অ্যাকাউন্টে। অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছে শচীন-অক্ষয় কুমার এমনকি রেল মিনিস্ট্রির ভিডিও পর্যন্ত! ভারত সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাপের অ্যাকাউন্ট পরিচিতি তে লেখা ছিল “Citizen engagement platform of Government of India”

প্রসঙ্গত, ভারতে করোনা ভাইরাস প্রতিহত করার জন্যে যখন প্রধানমন্ত্রী পিএম কেয়ার্স নামক তহবিল গঠন করেন তখন টিকটক সেই অ্যাকাউন্টে ১০০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল। চিনের সাথে সীমান্ত সমস্যার আবহে টিকটকে ভারত সরকারের সেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় বিদ্যুতিক তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রক (Ministry of Electronics and Information and Technology)। যাতে টিকটক, হেলো, ইউসি ব্রাউজার, শেয়ার ইটের মতো ৫৯ টি অ্যাপকে নিষিদ্ধ করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রের অভিযোগ, এই ৫৯টি অ্যাপ ভারতের ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরি করছে। এমনকী, ভারতের সার্বভৌমত্ব, সৌভ্রাতৃত্বকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। ভারতের প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তাকেও নষ্ট করার চেষ্টা করছে এই অ্যাপগুলি। চিনের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে এই পদক্ষেপ নিসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *