ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্থা নিয়ে তুমুল বিতর্কের মাঝেই এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন বিজেপি নেতা ও প্রখ্যাত অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে মিঠুন এই অভিযোগকে “সরাসরি মিথ্যা কথা” বলে উড়িয়ে দেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের বক্তব্য নিছক ভোটের আগে উস্কানি দেওয়ার জন্যই আনা হচ্ছে।
মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, “কোন বাঙালিদের মারা হচ্ছে? যাঁরা বাইরে থেকে এসে অবৈধভাবে রয়েছেন, তাঁদের নিয়ে কথা হচ্ছে। প্রকৃত বাঙালিদের উপর কোনও অত্যাচার হয়নি।” তাঁর বক্তব্য, “আমি নিজেও দীর্ঘদিন বাংলার বাইরে থেকে কাজ করেছি। কোনওদিন কোনও হেনস্থার শিকার হইনি।”


এই বক্তব্যে সরাসরি আক্রমণ করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে তিনি বারবার বলেছেন, “বাংলা বললেই হেনস্থা হতে হয়।” তিনি ভাষা ও সংস্কৃতির লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন। তাঁর দাবি, “বাংলাকে অবদমিত করার চেষ্টা হচ্ছে।”
মিঠুনের তোপ: “ভোটের আগে নাটক হচ্ছে”
মিঠুন বলেন, “ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এই ইস্যুকে ইমোশনাল ভাবে ব্যবহার করছে তৃণমূল।” তাঁর দাবি, যারা ‘অনুপ্রবেশকারী’, শুধুমাত্র তারাই সমস্যা তৈরি করছে, প্রকৃত বাঙালিদের উপর কোনও অত্যাচার হচ্ছে না। তাঁর আরও সংযোজন, “একজন শিল্পী হিসাবে আমি সারা দেশ ঘুরেছি, বিভিন্ন জায়গায় থেকেছি, কোনও দিন নিজের ভাষা বা সংস্কৃতি নিয়ে সমস্যায় পড়িনি।”
তৃণমূলের পাল্টা: “বিক্রি হয়ে গেছেন মিঠুন”
এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “মিঠুন নিজের বাঙালিয়ানা বিজেপির কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। বাংলার মানুষ জানে কে বাঙালির পাশে আছে আর কে ভোটের সময় নাটক করছে।” তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ভিনরাজ্যে বাঙালিদের উপর নিপীড়ন ও বিদ্বেষমূলক আচরণের অনেক প্রমাণ রয়েছে। উত্তর ভারত, গুজরাত কিংবা কর্ণাটক—বিভিন্ন রাজ্যে এমন ঘটনা সামনে এসেছে।


সামাজিক মাধ্যমেও চড়ছে বিতর্কের পারদ
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ইস্যুতে বিভক্ত মত। কেউ বলছেন, মিঠুন যথার্থ বলেছেন—মিথ্যা প্রচার বন্ধ হোক। অন্যদিকে, অনেকে বলছেন, একজন প্রাক্তন বাঙালি অভিনেতার কাছ থেকে এমন বক্তব্য দুঃখজনক। একটি বড় অংশের মতে, “রাজনৈতিক লাভের জন্য বাংলার অস্তিত্ব নিয়ে খেলা হচ্ছে”। অন্যদিকে কেউ বলছেন, “এমন কোনও হেনস্থার ঘটনা কোথাও দেখা যাচ্ছে না, এটা পুরো ভোট-কেন্দ্রিক প্রচার।”
রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়বে, আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোট যত এগিয়ে আসবে, বাঙালি হেনস্থা, ভাষা আন্দোলন এবং সাংস্কৃতিক পরিচিতি নিয়ে বিতর্ক তত বাড়বে। বাংলার আবেগকে কেন্দ্র করে ভোট-রাজনীতি নতুন মোড় নিতে চলেছে।








