দিল্লিতে দলের সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকের আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার ভোটাধিকার নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন। তাঁর দাবি, বাংলায় যদি একজন ভোটারের নামও ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, তবে এক লাখ মানুষ নিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করবেন তিনি।
সোমবার কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, সোমবারের মিছিল ছিল শান্তিপূর্ণ। তবুও ৩০০-র বেশি জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচন কমিশনে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। মহিলা সাংসদদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে দেন, এটি কেবল শুরু, এবং বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে বিজেপিকে কঠিন জবাব দেওয়া হবে।


তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য, ভোটার তালিকা ভুল হলে সেই সময়ের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি মামলা হওয়া উচিত। অভিষেকের প্রশ্ন, কেন শুধুমাত্র বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিতে SIR কার্যকর হচ্ছে? তাঁর অভিযোগ, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে লাভ তোলার জন্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করছে।
তিনি বলেন, যারা ভুলভ্রান্ত ভোটার তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের পদত্যাগ করা উচিত। কমিশনের কাছে ডিজিটাল ভোটার লিস্ট না দেওয়ার কোনও যৌক্তিক কারণ নেই বলে অভিযোগ তাঁর। বরং এভাবে জনগণের সামনে কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
অভিষেকের সাফ বার্তা, বিজেপি যদি ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়ার কাজ শুরু করে, তবে তিনিও পদত্যাগ করতে প্রস্তুত। তাঁর প্রস্তাব, সেক্ষেত্রে লোকসভা ভেঙে দিয়ে সারা দেশে নতুন নির্বাচন হোক।


মঙ্গলবার দিল্লিতে ২০ নম্বর রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডে দলের নতুন অফিসে তৃণমূল সাংসদদের মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক হবে। সেখানে SIR ইস্যুতে সংসদে লড়াইয়ের কৌশল ও বাংলার সম্মান রক্ষার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। অভিষেকের দাবি, এই আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, এটি বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্ন।
তিনি আরও বলেন, বিজেপি যখন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নে সরাসরি তাদের হয়ে সাফাই গাইছে, তখন স্পষ্ট যে গণতন্ত্র রক্ষায় বিরোধী দলের একজোট হওয়া জরুরি। তৃণমূল বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়বে।
বাংলায় ভোটাধিকার নিয়ে এই তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে দিল্লির বৈঠক ও অভিষেকের হুঁশিয়ারি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ২০২৬-এর আগে এই ইস্যু বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘর্ষ আরও চরমে উঠতে পারে।







