সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানির মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ধরে অফিসার ঘাটতির অভিযোগের মধ্যেই এবার নির্বাচন কমিশনকে ৮,৫০৫ জন বি-গ্রেড অফিসার দেওয়ার কথা জানাল নবান্ন। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি আদালতে চাপ এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত?
গত বছরের নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া। প্রায় তিন মাস কেটে গেলেও পর্যাপ্ত অফিসার না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিল নির্বাচন কমিশন। এমনকি সুপ্রিম কোর্টেও কমিশনের তরফে বলা হয়েছিল, রাজ্য সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আধিকারিক মেলেনি।

এই আবহেই গত সপ্তাহে শুনানিতে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেছিলেন, কমিশন যা চেয়েছে, তাই দেওয়া হয়েছে। তাঁর যুক্তি ছিল, জেলার সংখ্যা কম হওয়ায় অফিসারের সংখ্যাও সীমিত। সেই সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত রাজ্যকে নির্দেশ দেন, এমন কর্মী ও আধিকারিক দিতে হবে, যারা অন্তত দুটি ভাষা জানেন।
এরপরই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। সুপ্রিম কোর্টে পরবর্তী শুনানির ঠিক আগে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে রাজ্য জানায়, তারা ৮,৫০৫ জন বি-গ্রেড অফিসার দিতে প্রস্তুত। কমিশন আগেও একাধিকবার অফিসার নিয়োগের দাবি তুলেছিল।
রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি মুখপাত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আজ অফিসার দেওয়ার কথা বলে রাজ্য সরকার কার্যত স্বীকার করল যে এতদিন এসআইআর প্রক্রিয়ায় তারা অসহযোগিতা করেছে।”


তবে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ আদালতে মামলার গতিপথে কী প্রভাব ফেলে, তা স্পষ্ট হবে আগামী সোমবারের শুনানিতেই।








