১১৪টি রাফাল কেনার প্রস্তুতি তুঙ্গে! মাক্রোঁর দিল্লি সফরের আগেই কি ছাড়পত্র দেবে প্রতিরক্ষা কাউন্সিল?

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর ভারত সফরের আগেই ১১৪টি রাফাল কেনার প্রস্তুতি তুঙ্গে। আগামী সপ্তাহে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিলের বৈঠকে মিলতে পারে গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারতের আকাশসীমা আরও শক্তিশালী করতে ফের বড় সিদ্ধান্তের দোরগোড়ায় কেন্দ্র। আরও ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং সেই লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে পারে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল (ডিএসি)। কৃত্রিম মেধা সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চলতি মাসেই ভারতে আসছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। তার ঠিক আগেই এই বৈঠক হওয়ায় রাফাল চুক্তি নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা যাচ্ছে, ডিএসি বৈঠকে নতুন প্রতিরক্ষা নীতি, আধুনিক অস্ত্র ও যুদ্ধসরঞ্জাম কেনার একাধিক প্রস্তাব আলোচনায় উঠতে পারে। তবে মাক্রোঁর সফরের মুখে এই বৈঠক বসায় রাফাল যুদ্ধবিমান ক্রয়ই যে মূল ফোকাসে, তা নিয়ে ওয়াকিবহাল মহলে বিশেষ সন্দেহ নেই। দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীন এই কাউন্সিলের প্রধান পদাধিকার বলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বর্তমানে রাজনাথ সিংহ-এর নেতৃত্বেই ডিএসি বৈঠকে বসার সম্ভাবনা প্রবল।

Shamim Ahamed Ads

সরকারি সূত্রের দাবি, ফ্রান্সের কাছ থেকে যে ১১৪টি রাফাল কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে, তার মধ্যে ১৮টি যুদ্ধবিমান ভারত পাবে তৈরি অবস্থায়, অর্থাৎ ‘ফ্লাইং কন্ডিশনে’। বাকি বিমানগুলি দেশেই তৈরি হবে যৌথ উদ্যোগে, যেখানে ভারতীয় প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য ব্যবহার থাকবে। প্রস্তাবিত এই বহরের মধ্যে ৮৮টি হবে এক আসনবিশিষ্ট এবং ২৬টি দু’আসনবিশিষ্ট যুদ্ধবিমান। সব মিলিয়ে এই প্রকল্পে ভারতের ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে ধাপে ধাপে ফ্রান্স থেকে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান ভারতে এসেছে, যার মধ্যে ৮টি ছিল দু’আসনবিশিষ্ট প্রশিক্ষণ বিমান। এই রাফালগুলির অপারেশনাল পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট ভারতীয় বায়ুসেনা। সেই সন্তুষ্টির ভিত্তিতেই গত বছর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিগোষ্ঠী আরও রাফাল কেনা বা দেশে যৌথ উৎপাদনের বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত দেয়।

এর পর থেকেই ১১৪টি রাফাল ‘মাল্টিরোল এয়ারক্র্যাফ্ট’ কেনার পরিকল্পনা কার্যত রূপরেখা পায়। এখন সব নজর ডিএসি বৈঠকের দিকে। ওই বৈঠক থেকে যদি নীতিগত অনুমোদন মেলে, তা হলে মাক্রোঁর ভারত সফরেই প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত