রনজি ট্রফির মাঠে ফের একবার নিজেদের দাপট দেখাল বাংলা। অনুষ্টুপ মজুমদারের নেতৃত্বে বাংলা রনজি জয় এর এই ম্যাচে শাহবাজ আহমেদের ঘূর্ণি-বোলিংয়ে কার্যত লণ্ডভণ্ড রেলওয়েজ। এক ইনিংস ও ১২০ রানের বিশাল ব্যবধানে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে ৭ পয়েন্ট অর্জন করল বঙ্গ ব্রিগেড।
প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত শুরু করেন ওপেনাররা। অনুষ্টুপ মজুমদার ও অভিমন্যু ঈশ্বরনের জুটিতে গড়ে ওঠে দৃঢ় ভিত। শেষ পর্যন্ত বাংলা প্রথম ইনিংসে তোলে বিশাল ৪৭৪ রানের পাহাড়। ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতক পান অনুষ্টুপ নিজেও। দলের অন্যান্য ব্যাটাররাও দেন প্রয়োজনীয় অবদান, যা দলের ইনিংসকে শক্ত ভিত দেয়।
জবাবে ব্যাট হাতে রেলওয়েজের শুরুটা থেকেই পতনের সুর। বাংলার বোলারদের নিখুঁত লাইন-লেংথে বারবার চাপে পড়ে প্রতিপক্ষ। প্রথম ইনিংসে রেলওয়েজ গুটিয়ে যায় মাত্র ২২২ রানে। এরপর ফলো-অন করেও তাদের ভাগ্যে রক্ষা হয়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৩২ রানে গুটিয়ে যায় গোটা দল।
শাহবাজ আহমেদ একাই তুলে নেন ৭ উইকেট, যা কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। তাঁর বোলিংয়ে রেলওয়েজের ব্যাটাররা দিশেহারা। ২২.৫ ওভার বল করে মাত্র ৫৬ রান দিয়ে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলার জয় নিশ্চিত করেন তিনি। অন্যদিকে, রাহুল হরি প্রসাদ নেন দুই উইকেট, এবং একটি উইকেট পান মহম্মদ কাইফ।
এই জয়ের ফলে বাংলার পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়াল ৭, যা তাদের গ্রুপে শীর্ষস্থানে পৌঁছে দেয়। রনজি ট্রফির এই মৌসুমে অনুষ্টুপের নেতৃত্বে দলের পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের। মাঠে খেলোয়াড়দের মধ্যে যে ঐক্য এবং মনোযোগ দেখা গিয়েছে, তা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।
বাংলা রনজি জয় এবার শুধু একটি জয় নয়, এটা রাজ্যের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন উদ্যমের বার্তা। তরুণ ও অভিজ্ঞদের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই দলটি দেখিয়ে দিল, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে বড় প্রতিপক্ষকেও হারানো সম্ভব।
বাংলা দলের কোচ ও সাপোর্ট স্টাফরাও জানিয়েছেন, এই জয় তাঁদের পরিকল্পনার সাফল্যের প্রতিফলন। তাঁদের মতে, প্রতিটি খেলোয়াড় নিজের ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করেছেন, যা ম্যাচটিকে এতটা একপেশে করে দিয়েছে।
পরবর্তী ম্যাচে আরও এক ধাপ এগিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা পাকা করার লক্ষ্যে নামবে বাংলা। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন অপেক্ষায়, শাহবাজ আহমেদের স্পিন ম্যাজিক আবার কবে দেখা যাবে সবুজ ঘাসে।







