বাংলাদেশের অশান্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে জঙ্গি কার্যকলাপ পশ্চিমবঙ্গে ছড়ানোর চেষ্টা ব্যর্থ করছে রাজ্য পুলিশ। রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার জানান, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের জঙ্গিদমনে সক্রিয় পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের মানুষ নিরাপদে রয়েছেন।
সম্প্রতি ক্যানিংয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এক যৌথ অভিযানে তেহরিক-উল-মুজাহিদিনের এক জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে। ডিজি রাজীব জানান, এই অভিযানে রাজ্য পুলিশের তৎপরতা এবং নিখুঁত পরিকল্পনার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমরা দুই দিন ধরে ওই জঙ্গির গতিবিধি নজরে রেখেছিলাম এবং শেষে সফলভাবে তাকে গ্রেফতার করি।”
পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একমাত্র রাজ্য, যার সঙ্গে তিনটি দেশের সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধে বিএসএফের ভূমিকার পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের তৎপরতাও গুরুত্বপূর্ণ। রাজীব কুমার বলেন, “সীমান্তে কিছু খামতি থাকলেও আমরা তা পূরণ করছি। সীমান্ত পেরিয়ে আসা অনুপ্রবেশকারীদের আমরা গ্রেফতার করে সঠিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
ডিজি জানান, পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ থেকে ভারতের পশ্চিম অংশে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাংলাকে করিডর হিসাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে জঙ্গি সংগঠনগুলি। তবে রাজ্য পুলিশের তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
ডিজি রাজীব কুমার বলেন, “মানুষের সহযোগিতার জন্যই জঙ্গিদমনে আমরা সফল হচ্ছি। আমরা যেমন মানুষের জন্য কাজ করছি, তেমন মানুষের ভরসা আমাদের বড় সম্বল। আমাদের উপর আস্থা রাখুন, আমরা রাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।”
অনুপ্রবেশ রোধে এবং জাল পাসপোর্টের ব্যবহার ঠেকাতে প্রতিটি থানার পুলিশ সুপারকে পাসপোর্ট যাচাই প্রক্রিয়ার তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিজি রাজীব জানান, আগামী দিনে এই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হবে।



