নজরবন্দি ব্যুরোঃ সুবিচারের উদাহরণ থাক, দুপুর নাগাদ বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানির আর্জি কল্যাণের। জটিলতা জারি হাউস অ্যারেস্ট নিয়ে, বাড়ি থেকে নিজাম প্যালেস, প্রেসিডেন্সি থেকে উডবার্ণ। সব মিলিয়ে নারদ কান্ডের পারদ চড়ছিলো দিনদিন। সোমবার থেকে শুক্রবার রাজ্য-রাজনীতি এক প্রকার তোলপাড় ছিলো এই এক বিষয়ে। আর আজকের রায়ের পরেও এ যেন শেষ হয়েও হইলো না শেষ। সামান্য বিরতি নিয়ে ফের শুরু হয়েছে সওয়াল-জবাব।
আরও পড়ুনঃ জটিলতা জারি হাউস অ্যারেস্ট নিয়ে, ফের শুরু সওয়াল-জবাব!
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার, আচমকা বিনা নোটিসে নারদ কান্ডের জন্য একে একে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ফিরহাদ-সুব্রত-মদন এবং শোভনকে। এঁদের মধ্যে দুজন মমতা সরকারের বর্তমানের মন্ত্রী। একজন বিধায়ক, এবং একজন প্রাক্তন বিধায়ক। তার পর থেকে আজ এখনো পর্যন্ত ঘণ্টায় ঘন্টায় বদলেছে এই মামলার ভোল। আজও একপ্রকার রায় ঘোষণার পরেও ফের শুরু হয়েছে প্রশ্ন-উত্তর পর্ব।
আজ প্রায় সোয়া এগারোটা থেকে মামলার শুনানির চলে। আদালত জানিয়েছে শর্তসাপেক্ষ জামিন পাবেন চারজনই। সুত্রের খবর সেখানে ৪জনের জামিন মঞ্জুর হওয়া নিয়ে মতবিরোধ ঘটে দুই বিচারপতির।বিচারপতি অরিজিত্ বন্দ্যোপাধ্যায় জামিনের পক্ষে রায় দিলেও তার বিরোধীতা করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল। সর্বশেষ হাইকোর্টের তরফ থেকে জানানো হয়েছে শর্তসাপেক্ষে জামিন পাচ্ছেন চারজনেই। আপাতত জেল হেফাজত থেকে মুক্তি পেলেও থাকতে হবে গৃহবন্দী। সিবিআই কর্তাদের নজরদারির মধ্যেই থাকবেন চার জনই। অর্থাৎ প্রেসিডেন্সি থেকে বাড়ি গেলেও ফিরহাদকে কার্যত আটকে থাকতে হবে বাড়িতেই। অন্যদিকে বাকি ৩ জনেই আপাতত হাসপাতালে।
আর সেখান থেকেই নতুন করে শুরু হয়েছে জটিলতন। প্রথম থেকেই প্রশ্ন তুলছিলেন অভিষেক। দুই বিচারপরি জামিনের সিদ্ধান্তে একমত না হওয়ায় প্রথমেই উচ্চতর বেঞ্চে যাবেন বলে জানিয়েছিলেন অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। তাঁর বক্তব্য ছিলো, ‘‘এঁরা সিনিয়র মিনিস্টার। এঁদের কোথাও যাওয়ার দরকার নেই, তাহলে কেন গৃহবন্দি করার সিদ্ধান্ত?’ সঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন বর্তমানে কোভিড পরিস্থিতি রাস্তায় নেমে কাজ করা দরকার তাঁদের। বস্তুত করোয়ান পরিস্থিতিতে রাজ্যের মন্ত্রীদের কাজের প্রয়োজনীয়তার কথা মাতাহ্য রেখেই জাম্নিএর আবেদন করেছিলেন তিনি। হেফাজতের কারণে কাজ আটকে আছে বলেও সওয়াল করেন তিনি। অন্যদিকে CBI আইনজীবী তুষার মেহতা এর উত্তরে বলেছিলেন, ‘‘গৃহবন্দি হলেও উনি তো বাড়িতে থেকে কাজ করতে পারবেন।’’
দুই পক্ষের সাওয়াল জবাবের মাঝেই প্রশ্ন করেন তৃণমূল সাংসদ এবং আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদাল্লতের মধ্যেই মতোবিরোধ নিয়ে তাঁর একচোট হয়ে CBI আইনজীবী তুষার মেহতার সঙ্গেও। তাঁর যুক্তি করোনা পরিস্থিতিতে রাস্তায় নেমে কাজের জন্য দরকার ফিরহাদকে। সেখানে গৃহবন্দী থাকলে কাজের কোন সুবিধা হবেনা। বাড়িতে বসে মন্ত্রীত্ব এবং করোনা মোকাবিলা আদপে সম্ভব নয় বলেই যুক্তি তার।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেক্ষেত্রে জানিয়েছেন মামলা যাক বৃহত্তর বেঞ্চে। বিচারপতিদের মতের মিল না হলে মামলা বৃহত্তর বেঞ্চে যায়। সে ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত প্রধা্ন বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল সিদ্ধান্ত নেবেন আর কোন কোন আইনজীবীকে নিয়ে গঠিত হবে বৃহত্তর বেঞ্চ। তিনি চাইলে এই মামলা অন্য বেঞ্চেও স্থান্তরিত করতে পারেন প্রয়োজনে। সাধারণ ভাবে মামলার খুঁটিনাটি নিয়ে এই বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন সময় সাপেক্ষ হলেও দ্রুত সমাধানের জন্য আজই বৃহত্তর বেঞ্চ গঠনের এবং মামলা স্থানান্তরিত করার আর্জি জানিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
সুবিচারের উদাহরণ থাক, দুপুর নাগাদ বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানির আর্জি কল্যাণের, বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন সময় সাপেক্ষ জানার পরেও আইনজীবী হয়ে এতো দ্রুত বৃহত্তর বেঞ্চ গঠনের দাবী জানানোর প্রেক্ষিতে তিনি জানিয়েছেন ‘‘সিবিআই যদি আদালতকে ১৭ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার সময় শুনানির অনুরোধ জানাতে পারে, তবে আমরা বলতে পারব না কেন?’’ তাঁর মতে ‘‘গোটা দেশ এই মামলায় নজর রাখছে। বিচারপতিদের উচিত এমন উদাহরণ তৈরি করা যাতে মানুষ বোঝেন বিচার ব্যবস্থা আসলে তাঁদেরই পক্ষে।’’ আপাতত দুপুর ২টয় বৃহত্তর বেঞ্চে এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি হবে।



