প্রয়াত বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ হাজি নুরুল ইসলাম। মাত্র ৬১ বছর বয়সে মারা গেলেন তিনি। যদিও দীর্ঘদিন ধরে হাজি নুরুল যকৃতের ক্যান্সারে ভুগছিলেন। বুধবার নিজের গ্রামের বাড়িতে মৃত্যু হল তাঁর। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বসিরহাট কেন্দ্র থেকে ৩ লক্ষ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটে জেতেন তিনি। হারিয়ে দেন শোরগোল ফেলে দেওয়া বিজেপি প্রার্থী সন্দেশখালির রেখা পাত্রকে।
১৯৬৪ সালে বেহারাতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন হাজি নুরুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি বারাসাতের ছোটজাগুলিয়াতে থাকতেন। ২০০৯ সালে বসিরহাট কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের হয়ে প্রথমবার ভোটে দাঁড়ান হাজি নুরুল। সেবার জিতে সাংসদ হয়েছিলেন। পরবর্তী ক্ষেত্রে ২০১৪ সালে তাঁকে জঙ্গিপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়। কিন্তু তিনি হেরে যান। এরপর ২০১৬ বিধানসভায় হাড়োয়া থেকে দাঁড়িয়ে জয় পান তিনি। ২০২১ সালেও হাড়োয়া কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক পদ বহাল রাখতে সমর্থ হন হাজি নুরুল।
সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের আগে বসিরহাট কেন্দ্র নিয়ে বিরাট হইচই শুরু হয়। কারণ তার আগেই রেশন দুর্নীতিতে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের নাম জড়িয়ে ছিল। বসিরহাটে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন ইডি আধিকারিকেরা। শিরোনামে উঠেছিল সন্দেশখালি। নারী নির্যাতনের মত ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল উত্তর চব্বিশ পরগনার এই ছোট্ট দ্বীপাঞ্চল।
সেই অবস্থায় হাজি নুরুলকে ফের একবার লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর নেত্রীকে নিরাশ করেননি তিনি। ২০০৯ বিধানসভায় যেখানে মাত্র ৬০ হাজারের কাছাকাছি ভোটে তিনি জিতেছিলেন, সেখানে এবার জেতেন তিন লক্ষের বেশি ভোটে, তাও বিতর্কিত পরিস্থিতিতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত স্নেহের পাত্র ছিলেন হাজি নুরুল। কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁর উপরে বারবার ভরসা করেছেন তৃণমূল নেত্রী। ফলও পেয়েছেন।
এবারের লোকসভার আগে থেকেই যদিও হাজি নুরুল নানান শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ভোটের সময় অসুস্থও ছিলেন। খুব বেশি প্রচারে বেরোতে পারেননি। মাঝে তাঁকে কয়েকবার দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতাল এবং মুম্বাইয়ের এমসে নিয়ে যাওয়া হয়। কলকাতার অ্যাপোলোতেও চিকিৎসা চলছিল তাঁর। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। দ্বিতীয়বার সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই মারা গেলেন হাজি নুরুল। তাঁর এই আচমকা প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার এবং স্থানীয় তৃণমূল শিবিরে।



