নজরবন্দি ব্যুরোঃ ব্যারাকপুর অগ্নিকান্ড, ইয়াসের তান্ডবের মাঝেই বৃহস্পতিবার ভোররাতে আগুন লাগে ব্যারাকপুরের গেঞ্জি কারখানায়। টানা দুদিন দমকল-রোবটের ব্যবহারের নেভেনি আগুন। প্রথম থেকেই স্থানীয়রা আশঙ্কা করেছিলেন ভেত্রে ৪ জনের আটকে থাকার, গতকাল পর্যন্ত মেলেনি তাঁদের খোঁজ। তিন দিনের মাথার কারখানার সিঁড়িতে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় অবশেষে মিলেছে ৪টি অগ্নিদগ্ধ দেহ।
আরও পড়ুনঃ কাশি কমেছে-বেড়েছে শর্করার মাত্রা, আপাতত স্থিতিশীল বুদ্ধবাবুর
বৃহস্পতিবার ভোরে নিউ বারাকপুরের বিলকান্দা এলাকায় এক গেঞ্জি কারখানায় আগুন লাগে। কারখানার পিছনের দিকে ছিল এক বেসরকারি হাসপাতালের গুদাম। সেখান মজুত প্রচুর পরিমাণ মেডিক্যাল সরঞ্জাম অর্থাৎ ডায়াপার, স্যানিটাইজার, বেবি ফুড। এসবই অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দমকলের ইঞ্জিন আগুন নেভাতে না পারায় আন হয়েছিল রোবটও। তাতেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি লেলিহান শিখা।
প্রথম থেকেই স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ভিতরে চারজন আটকে আছেন। গতকাল সেই চারজনের পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে। আটকে থাকা কর্মীর হলেন সুব্রত ঘোষ, তন্ময় ঘোষ চাকদহের বাসিন্দা, অমিত সেন হরিণঘাটা এবং স্বরূপ ঘোষ অশোকনগরের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। প্রচণ্ড আগুনের মধ্যে তাঁদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বড়ই কম বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও আগুন লাগার সময় তাঁরা ঘুমিয়ে ছিলেন। তাঁদের কাছাকাছি থাকা ৪ টি সিলিন্ডারও ফেটে যায়। তাঁদের একজনের পরিবার মালিকের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছে। তাঁদের দাবি লকডাউন থাকা সত্বেও ৪ জনকে কিছুদিন আগে কাজে ডেকে পাঠায় মালিক।
ব্যারাকপুর অগ্নিকান্ড, বাদানুবাদের-অগ্নি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার মধ্যেই আজ সকালে উদ্ধার হয়েছে আটকে পড়া ওই চার জনের ঝলসে যাওয়া দেহ। কারখানার সিঁড়িতে পাওয়া গিয়েছে ওই চার দগ্ধ দেহকে। গত কয়েকদিন ধরেই আতঙ্কের প্রহর গুনছিলেন পরিবারের সকলে। তিন দিন ধরে আগুনে ভেতর আটকা পড়ে আছেন তাঁদের প্রিয়জনেরা। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো আজ ড্রোণ উড়িয়ে তল্লাশি করা হবে।। তবে তার আগেই আগুন নিয়ত্রণে আসায় উদ্ধার হয়েছে দেহ গুলি। পরিবারের লোকজনেরা দেহ শনাক্ত করার পর পুলিশ ওই ৪ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করবেন।



