বাংলাদেশে ফের অস্থিরতা। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়েছে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের খবর। এই আবহে হিংসার দায় ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র সমর্থকদের ঘাড়ে চাপালেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্যে পরোক্ষ ভাবে উঠে এল ভারতের প্রসঙ্গও।
মঙ্গলবার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় আমেরিকার বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে ফোনালাপে ইউনূস দাবি করেন, শেখ হাসিনার অনুগামীরা আসন্ন নির্বাচনী প্রক্রিয়া ভেস্তে দিতে বিপুল অর্থ ঢালছে এবং হিংসা উসকে দিচ্ছে। ইউনূসের কথায়, “ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শাসনের সমর্থকেরা নির্বাচন বিঘ্নিত করতে সক্রিয়।” যদিও তিনি কারও নাম নেননি, তবে ইঙ্গিত স্পষ্ট বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

হিংসা, ভাঙচুর আর কূটনৈতিক টানাপড়েন
ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে রাজধানী ঢাকা-সহ একাধিক শহরে অশান্তি বেড়েছে। ছায়ানট, উদীচীর মতো ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের দফতরেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। শরীয়তপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সঙ্গে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে দিল্লি ও শিলিগুড়ির পর আগরতলাতেও সাময়িক ভাবে ভিসা কেন্দ্র বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব এবং দিল্লির বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ—সব মিলিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
এ দিকে রাষ্ট্রপুঞ্জও সাম্প্রতিক হিংসা ও সংখ্যালঘু যুবক দীপুচন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে সূত্রের খবর।


ভোট হবে নির্ধারিত সময়েই, বলছে কমিশন
এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের বার্তা দিল বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দিন মঙ্গলবার পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও আঞ্চলিক নির্বাচন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে জানান, নির্ধারিত দিনেই ভোট হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউনূসও একই সুরে বলেন, “দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অপেক্ষা করছেন। অন্তর্বর্তী সরকার যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।” তাঁর দাবি, স্বৈরাচারী শাসনামলে যে ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছিল, তা ফের প্রতিষ্ঠা করাই এই নির্বাচনের লক্ষ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমবর্ধমান হিংসা, ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক টানাপড়েন এবং আন্তর্জাতিক উদ্বেগ—এই ত্রিমুখী চাপে বাংলাদেশের সামনে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এক বড় পরীক্ষাই হতে চলেছে।







